ওঙ্কার ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইভিএম স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম সংরক্ষণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শাসকদলকে নিশানা করেছেন।
ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, স্ট্রংরুম ও পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। সেখানে তিনি কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং দলীয় প্রার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় কোনওরকম কারচুপির সম্ভাবনা থাকলে তা প্রতিরোধ করা জরুরি। তিনি প্রার্থীদের রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ারও নির্দেশ দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। তাঁর দাবি, বিজেপির এজেন্ট এবং নির্বাচন প্রতিনিধিরা সেখানে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করায় কোনও অনিয়মের সুযোগ হয়নি। শুভেন্দুর বক্তব্য, তৃণমূল ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভোট-পরবর্তী বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, গণনার আগে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই শাসকদলের উদ্দেশ্য।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগান, বিক্ষোভ এবং অভিযোগে পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। রাজ্যের নির্বাচনী আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইভিএম নিরাপত্তা এবং গণনার স্বচ্ছতা বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে জানায়, ইভিএম স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সিল করা রয়েছে এবং পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়, পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলিকে পূর্বেই অবহিত করা হয়েছিল এবং কোনওরকম অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ভোট-পরবর্তী এই স্ট্রংরুম বিতর্কে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সংঘাত আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি শাসকদলের অভিযোগকে রাজনৈতিক নাটক বলেই দাবি করছে। ফল ঘোষণার আগে এই সংঘাত যে আরও তীব্র হবে, তা স্পষ্ট। বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এখন ইভিএম নিরাপত্তা, স্ট্রংরুম নজরদারি এবং রাজনৈতিক পারস্পরিক অবিশ্বাস এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।