ওঙ্কার ডেস্ক: নবান্নে পাঠানো এক যৌথ চিঠির মাধ্যমে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্য মানবাধিকার কমিশন ও লোকায়ুক্ত নির্বাচনী কমিটির ১ ডিসেম্বরের বৈঠকে তিনি কোনওভাবেই অংশগ্রহণ করবেন না। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠকগুলি আর সংবিধানসিদ্ধ বা নিরপেক্ষ নয়। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। তাই এতে উপস্থিত থাকা মানে সেই প্রক্রিয়াকে নীরবে স্বীকৃতি দেওয়া, যা তিনি মেনে নিতে রাজি নন।
চিঠিতে শুভেন্দু স্পষ্ট করেন, গত সাড়ে চার বছরে তিনি এই ধরনের বৈঠকে কখনও উপস্থিত হননি এবং এবারও সেই অবস্থান বজায় রাখছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে সংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা, এসব সংক্রান্ত বহু ঘটনায় প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা এবং পক্ষপাতিত্ব জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই সেই একই ব্যবস্থার অধীনে গঠিত কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া তাঁর কাছে অনৈতিক।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে হিংসা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সংকটের ঘটনাগুলি বারবার সামনে এসেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে ক্ষমতাসীনদের দিকেই। কিন্তু কার্যকর তদন্ত বা জবাবদিহিতা খুব কমই দেখা গেছে। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার রক্ষা কিংবা সত্যিকারের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে নয়। তাই এই বৈঠকে যোগ দিলে সেটি কেবলমাত্র প্রশাসনিক ছবিকে সাদা করে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা পড়তে পারে।
তবে বিরোধী নেতার এই বয়কটের মধ্যেও কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। রাজ্য সরকার মনোনয়ন তালিকা তৈরি করে চূড়ান্ত পর্যায়ে পাঠালে তিনি সেটি যথাযথ পর্যালোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, দায়িত্ব এবং কর্তব্য থেকে সরে আসা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং তিনি কেবল সেই সব বৈঠকেই থাকতে চান যেখানে প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। শাসকদলের তরফে যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিরোধী নেতার এই সিদ্ধান্ত মূলত সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির অভিযোগ তুলেছে, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
