ওঙ্কার ডেস্ক: বর্বরতা পাকিস্তানে। এক শিখ দম্পতিকে গুরুদুয়ারের ভিতরেই গুলি করে হত্যা করা হল। এই ঘটনার পর পড়শি দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বুধবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি গুরুদুয়ারে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের এই ঘটনায় সরব হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক দল বিজেপি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, নিহত দম্পতির নাম ৭০ বছর বয়সী জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা ওয়ান্তি। তাঁরা মারদানের খাজা গঞ্জ বাজারের বাবু মহল্লায় অবস্থিত ওই গুরুদুয়ারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন। অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীরা গুরুদুয়ারে ঢুকে ওই দম্পতিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে এক পুলিশ কর্মী মোতায়েন ছিলেন। কিন্তু হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না বলে অভিযোগ। গুরুদুয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও সেটি অকেজো অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতদের দেহ উদ্ধার করে মারদানের জেলা সদর হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নমুনা সংগ্রহের জন্য মারদানের জেলা পুলিশ আধিকারিক মাসুদ আহমেদ এবং এসএসপি (তদন্ত) মারিয়া মোস্তফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটালো তা জানতে তদন্ত চলছে।
অন্য দিকে এই ঘটনার পর শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংস্থা ‘অকাল তখত’ নিন্দা জানিয়েছে। অকাল তখতের জথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গাজ শিখ দম্পতিকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের কাছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বর্বরোচিত’।