ওঙ্কার ডেস্ক: শিলিগুড়ি শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে বুধবার সকালে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে। সেখানেই অনশন মঞ্চ গড়ে তুলে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, তাঁর বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বিধায়ক তহবিলের টাকা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে, যার ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না বা মাঝপথে থমকে রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই তিনি অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান।
সকাল থেকেই মূর্তির সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে। হাতে প্ল্যাকার্ড, স্লোগান তুলে তাঁরা বিধায়কের দাবিকে সমর্থন করেন। শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে এলাকায় রাস্তা সংস্কার, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা ও বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জটিলতা এবং সহযোগিতার অভাবে কাজ এগোচ্ছে না। তাঁর দাবি, বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিধায়কের আরও অভিযোগ, বিরোধী দলের প্রতিনিধি হওয়ার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁর প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলিকে আটকে রাখা হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে এবং উন্নয়নের রাজনীতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস না মিললে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে।
অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই হয় এবং প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তাব সঠিকভাবে জমা না পড়লে বিলম্ব হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁদের মতে, এই অনশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনসমর্থন আদায়ের কৌশল মাত্র।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে শিলিগুড়ির রাজনীতিতে নতুন করে তহবিল বণ্টন, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কবে থমকে থাকা কাজগুলির সমাধান হবে এবং এলাকায় বাস্তব উন্নয়ন দেখা যাবে।
