নিজস্ব সংবাদদাতা : সামনে নির্বাচন, কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে প্রায় সব রাজনৈতিক দল। রাজ্যে SIR নিয়েও চলছে জোর তর্জা ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও রাজ্যের বুথ পরিকাঠামোর সমীক্ষা এবং তদনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করতে নারাজ হওয়ায় রাজ্য সরকারি সংস্থা ম্যকিনটোস বার্ণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন চুক্তিবদ্ধ হয়েও কাজ করতে নারাজ এই রাজ্য সরকারি সংস্থাকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সতর্ক করে চিঠি দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। কেন ওই সংস্থাকে ব্ল্যাক লিস্টেড করা হবে না অথবা তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে চিঠি দিল রাজ্য সিইও দপ্তর। ফলে ম্যাকিনটোস বার্নকে কেন্দ্র ফের সংঘাত দেখা দিয়েছে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের।
প্রসঙ্গত, রাজ্য পূর্ত দপ্তরের অধীনস্থ এই সরকারি সংস্থাকে রাজ্যের ভোট বুথের বিন্যাস এবং বুথগুলির স্বাস্থ্য সমীক্ষার মাধ্যমে পরিকাঠামগত সার্বিক হাল হকিকত খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার কথা। তার ভিত্তিতে রাজ্যের বর্তমান ৮০ হাজার ৬৮১ বুথ সহ বর্ধিত আরও প্রায় ১৪ হাজার বুথকে কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী তৈরি করে একটি অনলাইন তথ্য ভান্ডার তৈরি করতে চায় রাজ্য সিইও দপ্তর। যার মাধ্যমে সরাসরি এ রাজ্যের বুথগুলির অবস্থা দিল্লি নির্বাচন সদন থেকেও পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে ম্যাকিনটোস বার্ণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় রাজ্য সিইও দপ্তর। ভোটের বুথগুলির Assured Minimum Facilities (AMF) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে এই কাজের জন্য রাজ্য অর্থ দপ্তরের অনুমোদনও মিলেছে।
সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর যখন কাজ শুরুর কথা ঠিক তখনই বেঁকে বসে ওই সরকারি সংস্থা কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সিইও দপ্তরকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তারা এই প্রকল্পের কাজ করতে নারাজ। এদিকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলোতে SIR প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে তৎপর হলেও ম্যাকিনটোস বার্ণের বিভিন্ন অসম্মতির জেরে নতুন করে বিপত্তিতে পড়েছে রাজ্য সিইও দপ্তর।
রাজ্য সরকারি সংস্থার এ ধরনের আচরণে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশনও। অগত্যা রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল ওই সরকারি সংস্থার কর্তাদের কড়া ভাষায় চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন কেন এই সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে না এবং ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না ? একই সঙ্গে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫১ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিরিত্ব আইন অনুযায়ী কমিশনের নির্দেশ পালন করা বাধ্যতামূলক।
কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে। এমনকি আর্থিক জরিমানা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থাকে অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার দেখার বিষয় এই জল এখন কত দূর গড়ায়।
