ওঙ্কার ডেস্ক: মঙ্গলবার থেকে বাংলায় শুরু হয়ে গেছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করছেন এনুমারেশন ফর্ম। সেই মত মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেও ফর্ম নিয়ে হাজির হয়ে যান বুথ লেভেল অফিসাররা। কিন্তু সেই ফর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত বাংলার সমস্ত মানুষ এনুমারেশন ফর্ম জমা দিচ্ছে তিনি ফর্ম ভর্তি করবেন না। তিনি কমিশনকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, যদি কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যায় তাহলে রাজধানীর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রথম দফায় এসআইআর হয়েছিল বিহারে। বিহার বিধানসভার কথা মাথায় রেখেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু করেছিল কমিশন। তখন থীকি এক প্রকার আশঙ্কা করা হয়েছিল বিহারের পরই হয়তো বাংলাতেও চালু হবে এসআইআর। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এসআইআর-এর দ্বিতীয় দফায় মোট ১২ টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এক বিশুদ্ধ তালিকা প্রকাশ করাই ছিল নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য।
কিন্তু বাংলায় এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক দল গুলির মধ্যে ভিনন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। একদল বিজেপি নেতা দাবি করেছিলেন বাংলায় এস আই আর শুরু হলে প্রায় ২ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাবে। অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল দাবি করেছিলেন বাংলায় নিজেদের পাকাপোক্ত জায়গা করে নিতে অক্ষম বিজেপি রাজ্যের ভোটার তালিকা কে প্রভাবিত করতে এসআইআর–এর সাহায্য নিচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বরাবর বলে এসেছে, এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভুল করা।
কমিশনের নির্দেশ্নামা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয় এবং নাম, ঠিকানা, ছবি বা অন্যান্য তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু ফর্ম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি বুথে নিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসারত ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের হাতে ফর্ম বিতরণ করেন ও তা সংগ্রহ করে ব্লকে জমা দেন। কেঊ চাইলে তাঁরা অনলাইন এ ফর্ম জমা দিতে পারেন।
আবেদনের সময় বয়স প্রমাণপত্র, যেমন জন্মসনদ, স্কুল সার্টিফিকেট বা আধার কার্ড এবং ঠিকানা প্রমাণপত্র, যেমন বিদ্যুৎ বিল, রেশন কার্ড বা ভাড়া চুক্তি জমা দিতে হয়। বুথ লেভেল অফিসাররা সরেজমিনে যাচাই করার পর এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেসে যুক্ত করেন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নাগরিকরা আপত্তি বা সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। এরপর সমস্ত যাচাই-বাছাই শেষে প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, যা পরবর্তী নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র যাঁদের বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁরাই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। একই ব্যক্তির একাধিক কেন্দ্রে নাম থাকা বেআইনি, এবং মিথ্যা তথ্য দিলে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কমিশন জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল একটি সঠিক, স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা, যাতে রাজ্যের প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত থাকে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল নেই।
