ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নতুন ভোটারদের আর অফলাইন ফর্ম জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকবে না। এখন থেকে নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন, ঠিকানা বদল বা অন্য কোনও আপডেট সবকিছুই করতে হবে শুধুমাত্র অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে। কমিশনের দাবি, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং কেন্দ্রীভূত করা, যাতে কাগজপত্রে ভুল বা অনিয়মের আশঙ্কা কমে।
নিয়ম অনুযায়ী, এখন ১৭ বছর পূর্ণ করলেই আগাম নিবন্ধন করা যাবে এবং ১৮ বছরে পা দিলেই নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে। ইপিক নম্বর তৈরি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আপলোড সবই করতে হবে মোবাইল অ্যাপ বা সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করে। যারা ইতিমধ্যেই ভোটার, তারাও ভবিষ্যতে কোনও পরিবর্তন আনতে চাইলে অনলাইনে আবেদন করতে বাধ্য থাকবেন। কমিশন জানিয়েছে, সময়সাপেক্ষ অফলাইন পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং যাচাই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।
সূত্র অনুযায়ী, জেলা নির্বাচনী দফতরগুলোতে এখন বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাপ্লিক্যান্টের মোবাইলে জানানো হবে যাচাই ও গ্রহণের অবস্থা। তবে বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে বুথে সহায়তা কেন্দ্র থাকবে, যেখানে মানুষ প্রয়োজন হলে নির্দেশনা পেতে পারেন, কিন্তু আবেদন জমা দিতে পারবেন না। সেটাও করতে হবে অনলাইনেই।
পুরো ব্যবস্থাটি আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন রাজ্যে চালু করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে দেশজুড়ে কার্যকর করা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। নির্বিঘ্ন ডিজিটাল প্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত সার্ভার, টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক দল ও ভোটার অধিকার সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ডিজিটাল সুবিধাহীন মানুষদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে অনায়াসে অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, তার জন্য প্রচার, হেল্পলাইন ও মাঠপর্যায়ের ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
