ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কের জেরে এবার হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, এই দুই রাজ্যে চলতি বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার জবাব দিতে হবে কমিশনকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। তাই এই প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা সংশয় দেখানোর কোনও কারণ নেই।
তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে এবং পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দুটি রাজ্য থেকেই একাধিক রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাত্র এক মাসের মধ্যে এত বড় রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা অবাস্তব ও অযৌক্তিক। অনেক জায়গায় এখনও দুর্বল ইন্টারনেট পরিষেবার কারণে অনলাইন আপলোড বা যাচাইয়ের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে বহু নাগরিকের নাম বাদ পড়তে পারে বা ভুল তথ্য থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই শুনানির সময় আদালত রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রশ্ন করে, “এই প্রক্রিয়াকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন?” বিচারপতিরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজই হল সময়ে সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করা। যদি পরবর্তীকালে কোনও ভুল থাকে, তা সংশোধন করা সম্ভব। তাই এই পর্যায়ে আদালতের তরফে প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার কোনও কারণ দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি, এই বিষয়ে দেশের অন্য কোনও হাইকোর্ট যাতে আলাদা ভাবে মামলার শুনানি না করে, সেই নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ নভেম্বর। ততদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজ্যেই নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হয়। এবার তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যেই এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো বা প্রক্রিয়া আংশিক সংশোধন করা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে এই মামলাকে ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক মুখপাত্রের দাবি, কমিশনের তাড়াহুড়োয় বহু গ্রামীণ এলাকায় ভোটার তালিকায় ভুল বা বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রবল। অন্যদিকে, বিজেপির মতে, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে, তাই এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কোনও মানে হয় না।
