ওঙ্কার ডেস্ক: উৎসবের মরশুম শেষ হতেই বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হবে তা এক প্রকার নিশ্চিত ছিল। সেই মত ২৭ অক্টোবর সোমবার ইলেকশন কমিশন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন। বিশেষজ্ঞ মহলে জল্পনা রয়েছে আগামী মাস থেকেই বাংলায় শুরু হবে এসআাইআর। বাংলার পাশাপাশি ঐ একই সময়ে তামিলনাড়ু, কেরলা, আসম এবং পুদুচেরিতেই বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। সোমবারের বৈঠকে বাকি রাজ্য গুলিরও এসআাআর-এর দিন ঘোষণা করতে পারে কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে বৈঠক।
এই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি মূলত দেশের প্রতিটি রাজ্যে ভোটার তালিকা পর্যালোচনা, সংশোধন করার প্রক্রিয়া। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে, একইসঙ্গে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত অথবা একই ব্যাক্তির একাধিক ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঠিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কর্মসূচি শুরু হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির মতো আগামী বছরের নির্বাচনের মুখে থাকা রাজ্যগুলিতে এই প্রক্রিয়া বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য আরও স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ভুল বা জালিয়াতির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা হবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটারদের যাতে সহজে নিজেদের তথ্য যাচাই ও সংশোধন করতে সুবিধা হয়, তার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মও সক্রিয় রাখা হবে।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই ঘোষণা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি কেন্দ্র আরও জানিয়েছে বেআইনি ভাবে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী দের জন্য ‘থ্রি-ডি মডেল’ চালু করবে কমিশন। প্রথমে ডিটেকশন, অর্থাৎ চিহ্নিতকরন, তারপর ডিলিট, যে প্রক্রিয়ায় অবৈধদের ভারতীয় নাগরিক তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে এবং সর্বশেষ, ডিপোর্ট অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে সরকারি নিয়ম মেনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৩ এর পর দেশব্যাপী এত বড় আকারের ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি হতে চলেছে। তাই এই উদ্যোগের সফলতা নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করবে। এই কর্মসূচি কেবল আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলির ক্ষেত্রেই নয়, বরং গোটা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার দিকেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
