ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে আটক থাকার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পরে সোনলি বিবি-র জীবনে অবশেষে স্বস্তির আলো। দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কোনও আদালতি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় সোনালি গর্ভবতী ছিলেন, শারীরিক অবস্থাও ছিল ভঙ্গুর। কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের কারাগারে থাকার পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই মানবিক দিকটি বিচার করে বাংলাদেশের আদালত তাঁকে জামিন দেয় এবং দেশে ফিরে যাওয়ার আবেদন করার সুযোগও করে দেয়।
এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। সোনালির পরিবার ভারতীয় নথিপত্র আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, জমির দলিল সহ একাধিক প্রমাণ তুলে ধরে জানায়, তিনি এবং তাঁর পরিবার জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। সেই দাবি খতিয়ে দেখে স্থানীয় আদালতও স্বীকার করে যে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতও। আদালত সোনালির গর্ভাবস্থা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত তাঁকে ভারত ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। মানবিকতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের মন্তব্য ছিল, কোনও নাগরিক বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা আইনগত জটিলতার কারণে বিদেশি কারাগারে অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে না। এই নির্দেশের পর স্বাভাবিকভাবেই সোনালির পরিবার ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
সোনালিও বাংলাদেশ থেকে জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত দেশে ফিরতে চান। সেখানে তাঁর থাকা-খাওয়ার, স্বাস্থ্য পরীক্ষার এবং প্রয়োজনীয় নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও, তিনি চান তাঁর সন্তান ভারতের মাটিতেই জন্ম নিক। নিজের সন্তানকে জন্ম থেকেই আইনি নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিচয় দিতে পারাটাই এখন তাঁর প্রথম চাওয়া। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোয় তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা না পেলে পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত এগোনো সম্ভব হত না বলে তাঁর দাবি।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নথি, ট্রাভেল পারমিট ও নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এগোচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
