ওঙ্কার ডেস্ক: ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে জেরবার আফ্রিকা। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সুদান থেকে কেরলে ফিরে আসা এক মহিলার শরীরে ইবোলার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হল। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, দক্ষিণ সুদান থেকে ফেরা ওই মহিলার শরীরে ইবোলা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁর পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার জ্বর নিয়ে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আফ্রিকান দেশটিতে যেহেতু তিনি সাম্প্রতিক কালে ভ্রমণ করেছেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি জানায়। এরপর তাঁকে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোট্টায়াম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে মুরলিধরন জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এখনই উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। যদিও পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরই ইবোলা সন্দেহে ওই রোগীকে কোট্টায়াম মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। তবে মেডিকেল সুপারের মতে, প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুসারে এখনই উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই মহিলা ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হতে তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বাস্থ্য প্রশাসন একটি তালিকা তৈরি করেছে, যেখানে ওই মহিলার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের উপরেও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদেশে ইবোলা সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর কেরলের স্বাস্থ্য দফতর বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। সেই আবহে ইবোলা উপসর্গ থাকা মহিলার হদিশ মিলল সে রাজ্যে। হাসপাতালগুলোকে আগেই কেরল সরকার সতর্কবার্তা পাঠিয়ে রেখেছিল, আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ইবোলা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, ক্লান্তি, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তপাত হতে পারে।