নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রেম কোন বয়স, সময় কিংবা পরিস্থিতি মানে না। প্রেম মানে শুধুই ভালবাসার টানে এক হয়ে যাওয়া দুটি মন। আর এই ভালোবাসার এক অন্যরকম গল্প লিখেছিলেন শোভন বৈশাখী। তবে এক্ষেত্রে গল্পের আরও একটি অধ্যায় আছে যার নাম রত্না চট্টোপাধ্যায়। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহিতা স্ত্রী। যদিও শোভনবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য তিনি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভালোবাসেন এবং তাঁর সঙ্গেই থাকেন।
এর মধ্যে কোন লুকোচুরিও তারা করেননি। তবে রত্না চট্টোপাধ্যায় প্রথম থেকেই বলে এসেছেন তিনি স্বামীকে ছাড়তে চান না। তিনি চান তাঁর স্বামী তাঁর সঙ্গেই থাকুক। শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গে থাকতে শুরু করার পরবর্তী পর্যায়েও রত্না চট্টোপাধ্যায় কখনো তার এই বক্তব্য পরিবর্তন করেননি। জল যখন অনেকটাই গড়িয়েছে তখন শোভন চট্টোপাধ্যায় বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আপিল করেন। রত্না চট্টোপাধ্যায়ও কোর্টকে জানিয়ে দেন তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান।
শোভন-রত্নার বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা গত আট বছরে নানা বাঁক পেরিয়েছে। আদালতে শুনানি থাকলে শোভনের সঙ্গে যেতেন বৈশাখীও। দু’জনকেই দেখা যেত রং মিলিয়ে পোশাক পরতে। আর রত্না যেতেন তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে নিয়ে। একসময়তো এই ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় সকলের সামনে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। কিন্তু এবার প্রকাশ্যে এল আদালতের রায়। আর সেই রায় একেবারে চমকে দেওয়ার মতো। আট বছর ধরে আলিপুর আদালতে সেই মামলা চলার পরে শুক্রবার তা খারিজ করে দিলেন বিচারক। রত্না পাল্টা শোভনের সঙ্গে একত্রবাসের আর্জি জানিয়েছিলেন আদালতে। বিচারক তা-ও খারিজ করে দিয়েছেন।
অর্থাৎ, শোভন বিবাহবিচ্ছিন্ন হলেন না। আবার রত্নাও তাঁর স্বামীর সঙ্গে একত্রবাসের সুযোগ পেলেন না। ফলে শোভনের জীবনে ভালোবাসা বজায় রইল। তিনি বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যেমন থাকেন, তেমনই থাকতে পারবেন। আর রত্না চট্টোপাধ্যায়ের নাম থাকবে আইনত স্ত্রী হিসেবেই। আদালতের এই রায়কে যদিও রত্না চট্টোপাধ্যায় নিজের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন তবে নিন্দুকেরা প্রশ্ন করছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়কে যেহেতু আদালত তার বান্ধবীর সঙ্গেই থাকার অনুমতি দিয়েছে এবং সেইমতো শোভন চট্টোপাধ্যায় তার মনের মানুষ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই একত্রবাসে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই রত্না চট্টোপাধ্যায় শুধু কাগজের বউ হয়েই রয়ে গেলেন এটা কি আসলে সত্যি জয় পাওয়া হল ?
সে যাই হোক, কাগজের বউ আর মনের বউর মাঝখানে আপাতত এক ভিন্নস্বাদের জীবন নিয়েই এখন থেকে শোভনের জীবন যাপন, এটাই হল আসল রায়।
