কলকাতা: সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বড় মোড় নিল রাজ্যের দলত্যাগ বিরোধী মামলা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের যে আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, তা খারিজ করে দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১১ পাতার নির্দেশে স্পিকার জানান, আবেদনটি আইন মেনে করা হয়নি, অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ণ।
মমতা তৃণমূলের তরফে শোভনদেববাবু অভিযোগ করেছিলেন, ওই ১০ জন বিধায়ক দলত্যাগ করে বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তাই তাঁদের পদ বাতিল করা হোক। পরে সেই মামলার জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এমতাবস্থায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলে জানায়। কিন্তু এর মাঝেই ব্যক্তিগত কারণে বিদেশে গিয়েছিলেন রথীন্দ্র বসু। বিদেশ থেকে ফিরেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে রায় দেওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
তবে আদালতের নির্দেশ মানতে হাসপাতাল থেকেই তৎপর হন স্পিকার। বুধবার বিকেলে সেখান থেকেই তিনি দুই পক্ষকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে মুখোমুখি হন শোভনদেব এবং ঋতব্রত-সহ ১০ বিদ্রোহী বিধায়ক। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন রথীন্দ্র বসু।
এরপরেই গভীর রাতে প্রকাশিত রায়ে স্পিকার জানান, দলত্যাগ বিরোধী আইনের ৭(২) ধারা অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে আবেদন জমা দেওয়া উচিত ছিল, তা মানা হয়নি। এটি একটি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, মামলার মূল বিষয় অর্থাৎ দলত্যাগ হয়েছে কিনা, সেই মেধার বিচারে তিনি ঢোকেননি। শুধুমাত্র আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতিতে গলদ থাকায় তা খারিজ করা হল। চাইলে ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন শোভনদেব।
এমতাবস্থায় স্পিকারের রায়ে স্বস্তিতে বিরোধী শিবির। প্রতিক্রিয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভার ভেতরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার স্পিকারেরই আছে। তিনি সাংবিধানিক রীতি মেনে যে রায় দিয়েছেন, আমরা তাকে সম্মান জানাই।”
অন্যদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, “যদি আবেদনে শুরু থেকেই ভুল থাকে, তাহলে প্রথম দিনেই তা বাতিল করা হল না কেন? স্পিকার আমাদের ডাকলেন, শুনানি করলেন, নথি নিলেন, তার মানে আবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এতদিন পর প্রক্রিয়াগত ত্রুটির অজুহাত কেন?” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের পরেও জট কাটছে না। শোভনদেব শিবির ইতিমধ্যেই এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।