ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সদস্যপদ নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর এবার তাঁদের জবাব তলব করলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে হবে।
জানা গিয়েছে, ২০ জন সাংসদকে পৃথক ভাবে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। তাঁদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর দলের একাধিক সাংসদ দল ছাড়েন। পরে তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ে যোগ দেন। একই সঙ্গে এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানান তাঁরা। এর পর সংসদে কয়েকজন সাংসদের আসনও বদল হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়। তবে এনসিপিআইয়ের সাংসদ হিসেবে এখনও ২০ জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতেই সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকারকেও চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানিতে তুষার মেহতা জানান, অভিষেকের আবেদনের ভিত্তিতে স্পিকার ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ২০ সাংসদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্পিকারের দফতর থেকে প্রতিটি সাংসদকে আলাদা নোটিস দেওয়া হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানানোর জন্য সলিসিটর জেনারেলকে স্পিকারের দফতর নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি দুই সপ্তাহ পরে। ফলে আপাতত ২০ সাংসদের জবাবের দিকেই নজর থাকছে।