ওঙ্কার ডেস্ক: প্রথমার্ধে মেসিকে ছাড়া খেলতে নেমেও দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে গ্রুপ ‘জে’-র শেষ ম্যাচে রবিবার সকালে, ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডন। সেই ম্যাচেই কার্যত ঝড় তুললেন লাউতারো মার্টিনেজরা। সেইসঙ্গে, বুঝিয়ে দিলেন যে, লিওনেল মেসিকে নিয়ে এবং লিওনেল মেসিকে ছাড়া, দুটি ক্ষেত্রেই বড় দলের মতো খেলতে পারে আর্জেন্টিনা।
অন্য কোনও দলের মতো আর্জেন্টিনাকে সব ম্যাচেই একজন বা দুজনের উপর নির্ভর করতে হয়না। গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই, বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন মেসি। দ্বিতীয় ম্যাচে, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসির জোড়া গোলেই দল জেতে। প্রথম দুই ম্যাচে মোট পাঁচ গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ‘এলএম১০’। তাই এই ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। তাই এই ম্যাচটি তাদের কাছে ছিল নিছকই নিয়মরক্ষার এবং রিজার্ভ বেঞ্চকে পরীক্ষা করে নেওয়ার একটি সুযোগ। আর সেই ম্যাচের শুরু থেকেই রীতিমতো ঝড় তুলতে শুরু করে দেয় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ১৩ মিনিটের মাথায়, প্রথম আক্রমণ তুলে আনে তারা। কর্নারের পর জিওভানি লো সেলসোর দেওয়া ক্রস থেকে সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের ডানদিক দিয়ে নিকোলাস ওটামেন্ডির নেওয়া হেডার অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটেই, ডেডলক ভাঙে আর্জেন্টিনা। ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বলকে গোলপোস্টের টপ লেফট কর্নার দিয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দেন জিওভানি লো সেলসো। আর্জেন্টিনা ম্যাচে লিড নেয় ১-০ ব্যবধানে। সেই মুহূর্তে রীতিমতো হাসিমুখে রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে সেই সর্বদা হাসিমুখে হাততালি দিচ্ছেন ম্যাজিশিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, যার ধারেকাছে কেউ নেই। যিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন। ২৮ মিনিটে, লাউতারো মার্টিনেজের বাঁ পায়ের শট বারপোস্টে না লাগলে তখনই আরেকটি গোল পেয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের ২৮ মিনিটে, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিকে টপ বক্সের ভিতরে ফাউল করেন জর্ডন ফুটবলার নিজার আল-রাশদান। ভিএআর রিপ্লে দেখে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ম্যাচের ৩১ মিনিটে, সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে আরও এগিয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। সেই গোলের পর, রিজার্ভ বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে রদ্রিগো ডি পল এবং মেসি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিতে থাকেন গোটা দলকে।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে, ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বলে একটি হেডার মিস হয় আর্জেন্টিনার। একটুর জন্য বাইরে চলে যায় বল। অন্যদিকে, জুলিয়ান আলভারেজের শট সেভ করেন জর্ডন গোলকিপার ইয়াজিদ আবুলাইলা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ফলাফল নিয়েই। ৬০ মিনিটে, তিনটি পরিবর্তন আসে আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে। জিওভানি লো সেলসোর বদলে থিয়াগো আলমাডা, লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় লিওনেল মেসি এবং নিকো পাজের পরিবর্তে মাঠে নামেন ম্যাক অ্যালিস্টারদ্বিতীয়ার্ধে মাঠে আসেন মেসি। আর মাঠে নেমেই গোল। খেলার ৮০ মিনিটে, ফ্রি-কিক থেকে অনবদ্য গোল করলেন ম্যাজিশিয়ান। ম্যাচের ফলাফল তখন ৩-১। অন্যদিকে, ৮২ মিনিটে, থিয়াগো আলমাডার শট অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়।
এরপর ৯০ মিনিটের মাথায়, আবারও সুযোগ চলে আসে আর্জেন্টিনার সামনে। তবে গোল করতে পারেননি মার্কোস সেনেসি। শেষপর্যন্ত, ৩-১ গোলে জর্ডনের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। এই জয়ের পর, তিন ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট দাঁড়াল ৯। অবশ্য তার আগেও নক-আউট পাকা হয়ে গেছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। গ্রুপ পর্বে জয়ের হ্যাটট্রিক করে এবং টপার হয়ে এবার আর্জেন্টিনার ফোকাস নক-আউটে। রাউন্ড অফ ৩২-তে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।