স্পোর্টস ডেস্ক: দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করল কলকাতা নাইট রাইডার্স । পরপর ৪ ম্যাচে জয় পেয়ে প্লে অফের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো নাইটরা।শুক্রবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল কেকেআর। সেই সঙ্গে প্লে-অফে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল নাইটরা।
১৪৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচ একাই শেষ করে দেন ফিন অ্যালেন। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও পরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন কিউয়ি ব্যাটার। মাত্র ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১০টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১৪.২ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে কেকেআর। ক্যামেরন গ্রিন ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন।শুরুর ব্যর্থতা কাটিয়ে অবশেষে ফেরে টি-২০ বিশ্বকাপের ঝলক। ঘরের মাঠে সাফল্য পাননি। শেষমেশ দিল্লির কঠিন পিচে পেলেন রান। শুরুতে যে রান তোলা খুব সহজ ছিল না, মেনে নিলেন ফিন। তাই চেয়েছিলেন উইকেট কামড়ে পড়ে থাকতে। ফিন অ্যালেন বলেন, ‘শুরুতেই উইকেট হারানোয় আমাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। প্রথমদিকে উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের স্ট্র্যাটেজি ছিল ভাল জায়গায় পৌঁছে শেষপর্যন্ত ব্যাট করা। কঠিন সময় টিকে থেকে, নিজেকে একটা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কয়েকটা ইনিংসে ভাল শুরু করেও, বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারিনি। হতাশ হয়েছিলাম। ব্যক্তিগত সাফল্য পেয়ে ভাল লাগছে।পরিস্থিতি তেমন হলে, নিজের ব্যাটিং ভুলে ফোকাস সিচুয়েশনে চলে যায়। আমি জানতাম আমাকে বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে হবে। সচরাচর ৪০ বল ক্রিজে টিকে থাকার ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। কখনও বাদ পড়লে, দৃষ্টিকোণ বদলে যায়। মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে আবার ফেরা যায়। আমি নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেলছিলাম।’কিউয়ি সতীর্থের সাফল্যে খুশি অস্ট্রেলিয়ান। গ্রিন বলেন, ‘বিশেষ শতরান। নন স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকার খুব বেশি সুযোগ পাওয়া যায় না। ফিন শুধু বলেছিল, পরের ওভারে দেখা হবে। আমি দ্বিতীয় ব্যাটারের ভূমিকা পালন করি। জানতাম ফিনকে শতরান করতে না দিলে, কলকাতায় আমাকে সবাই ঘৃণা করবে। এখান থেকে আমাদের প্রত্যেক ম্যাচ জিততে হবে।’এদিকে শুক্রবার কেকেআরের কাছে হারের পর হতাশা গোপন করেননি অক্ষর। দিল্লি অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘ভুলগুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আগামী মরসুমের জন্যও আমাদের পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। দলের সব ক্রিকেটারকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায় দেখতে হবে।’’
আইপিএলে এখনও পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলে চারটিতে জয় পেয়েছে দিল্লি। হার সাতটি। বাকি তিনটি ম্যাচ জিতলেও ১৪ পয়েন্টের বেশি পাওয়া সম্ভব নয় অক্ষরদের পক্ষে। ১০ দলের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত কোনও দল এই পয়েন্ট নিয়ে প্লেঅফে পৌঁছোয়নি। তা ছাড়া পয়েন্ট তালিকায় প্রথম পাঁচে থাকা প্রতিটি দলই অন্তত ১২ পয়েন্ট করে পেয়ে গিয়েছে। শীর্ষে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পয়েন্ট ১৪। তিনটি ম্যাচ বাকি তাদের। প্রথম পাঁচে থাকা বাকি চার দলের বাকি রয়েছে চারটি করে ম্যাচ।
নেট রান রেটের নিরিখে ১০টি দলের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ জায়গায় রয়েছে দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে থেকে প্লেঅফে ওঠার আর সম্ভাবনা নেই অক্ষরদের।