স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টাইন জাদুকর জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচেও ম্যাজিক দেখালেন। তিনি তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারের সঙ্গে মানানসই পারফরম্যান্স উপহার দিলেন ঘরের মাঠের দর্শকদের। ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনও গোল না হলেও, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খরা কাটে। নিকোলাস ওটামেন্ডি ৪৮ মিনিটে, মেসির পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। মেসি দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নেন। নিকো পাজ তাঁর সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন। আর এভাবেই তিনি নিজের শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখলেন।

আর্জেন্টাইন জাদুকর জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচেও ম্যাজিক দেখালেন। তিনি তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারের সঙ্গে মানানসই পারফরম্যান্স উপহার দিলেন ঘরের মাঠের দর্শকদের। ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনও গোল না হলেও, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খরা কাটে। নিকোলাস ওটামেন্ডি ৪৮ মিনিটে, মেসির পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। মেসি দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নেন। নিকো পাজ তাঁর সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন। আর এভাবেই তিনি নিজের শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখলেন।লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলার পর আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি জানালেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা।গত ২০ বছরের কথা মনে করে মেসি বলেন, এই দল ছেড়ে যাওয়াটা তাঁর কাছে খুব কষ্টের। সুযোগ থাকলে সারা জীবন তিনি আর্জেন্টিনার হয়েই খেলে যেতে চান। আর্জেন্টিনা মঙ্গলবার রাতে বুয়েনস আইরেসে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। আর এই ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করে মেসি রূপকথার মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেনলিওনেল মেসির সাদা নীল জার্সিতে শেষ ম্যাচ। তাই বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটা শুধুই আর পাঁচটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। বুয়েনস আইরসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল পরিণত হয়েছিল আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিদায়ী মঞ্চে। আতশবাজি, আবেগ, চোখের জল আর শেষমুহূর্ত পর্যন্ত গোলের খোঁজ, সব মিলিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। খেলা শুরুর আগেই মনুমেন্টালে দেখা যায় বিশাল ১০ নম্বর জার্সি। তাতে লেখা ‘Gracias’। গ্যালারি জুড়ে আর্জেন্টিনার নীল সাদা রং। সমর্থকদের হাতে জাতীয় পতাকা, গায়ে মেসির জার্সি। বিদায়ী মুহূর্তকে আরও আবেগঘন করে তুলতে মেসির সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করে তাঁর তিন ছেলে, থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো।

বিদায়ী ম্যাচের পর ৪৩৩ (433)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, “এই জার্সিকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। গত ২০ বছর ধরে খারাপ সময় এলেও আমি লড়াই থামাইনি। নিজের সেরাটা দিয়ে সবসময় এই দলেই থাকতে চেয়েছি। আর এখানে না আসা বা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে না থাকাটা আমাকে খুব কষ্ট দেবে। আমার হাতে থাকলে আমি সারা জীবন এখানেই থেকে যেতাম। কারণ, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আজ হয়তো আমি একটু বেশিই কথা বলছি, কারণ আমি চাই না এই মুহূর্তটা শেষ হোক।”জাতীয় সঙ্গীতের সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের জল লুকোতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। আবেগাপ্লুত ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিকোলাস ওটামেন্ডির মুখেও ছিল দুঃখের ছাপ। প্রাক্তন আর্জেন্টাইন তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াও ছিলেন গ্যালারিতে। ফ্রান্সের প্রাক্তন তারকা ডেভিড ত্রেজেগুয়ে মেয়েকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন মেসির শেষ ম্যাচে। বেনিনের অধিনায়কও বিশেষ উপহার তুলে দেন মেসির হাতে। এরপর শুরু হয় ফুটবল।শেষদিকে মনুমেন্টালে শুরু হয় মেসিকে ঘিরে গান। গ্যালারির হাজার হাজার সমর্থক বুঝে গিয়েছিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে প্রিয় তারকার শেষ মুহূর্তগুলো তাঁরা দেখছেন। শেষ বাঁশির ঠিক আগে প্রায় ২১ মিটার দূর থেকে আরও একটি ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসির সামনে শেষ সুযোগ। কিন্তু তাঁর শট ক্রসপিসের ওপর দিয়ে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি। মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষ হয়। থাকল একটি গোল, একটি অ্যাসিস্ট, অসংখ্য আবেগের মুহূর্ত এবং অগণিত স্মৃতি। মনুমেন্টালে এদিন প্রত্যাশার চেয়ে বিদায়ের আবেগই ছিল বেশি। যে মানুষটি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা সহ একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন, তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গ্যালারির একটাই বার্তা, ‘Gracias, Leo’।