স্পোর্টস রিপোর্টার, কলকাতা: ইস্টবেঙ্গল থেকে আইএসএল জিতিয়ে দেশে ফিরলেও কোচ অস্কার ব্রুজোকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবারে সরাসরি শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের উদ্দেশ্য নাম না করে রেফারি কেনার অভিযোগ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,’বেশ কয়েক বার সাজঘর থেকে মাস্টারকে বার করে দিয়েছি। উনি সাজঘরে ঢুকে শুধু ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফদের সমালোচনা করতেন। দলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতেন। কাজের পরিবেশ নষ্ট করতেন। বিষয়টা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। দলকে বাঁচাতেই আমায় হস্তক্ষেপ করতে হত।
উনি সব সময় দলের সঙ্গে ঘুরতেন। বুঝতে পারতাম, দলের পাশে থাকার বদলে নিজের প্রভাব বজায় রাখাই ছিল ওঁর উদ্দেশ্য। বার বার দলের কাছাকাছি আসার এবং নানা তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতেন। দলের ভিতরের সব খবর চলে যেত তাঁর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে। কৌশলগত তথ্যগুলো পরিকল্পিত ভাবে ফাঁস করে দেওয়া হত। তাতে দলের ক্ষতি হত। আমাদের বার বার বলা হত, অনুশীলন, কৌশল বা সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে সংবাদমাধ্যম যা প্রকাশ করে, সে সব ক্লাবের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই ব্যাখ্যাটা মেনে নেওয়া আমার জন্য কঠিন হত।আমাদের পাশের মাঠেই অনুশীলন করত মোহনবাগান। অথচ তাদের ধারাবাহিক ভাবে এই ধরনের প্রচারের সমস্যা সামলাতে হয়নি। আমাদের কৌশলগত তথ্য বার বার প্রকাশ হয়ে যেত। কারা খেলবে, কোন পদ্ধতিতে খেলা উচিত, কেমন পারফরম্যান্স হওয়া উচিত— এই সব নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হত।’’
এর পাল্টা ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বললেন ‘‘উনি যে সার্ভিস আমাদের দিয়েছেন, তার জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের আইএসএল দিয়েছেন। ফুটবলারদের অবশ্যই কৃতিত্ব আছে। কিন্তু একই সঙ্গে কৃতিত্ব ওঁরও। ওঁকে ইস্টবেঙ্গলে কোচ করে আনার ক্ষেত্রে যে ক’জনের ভূমিকা ছিল, আমিও তাঁদের মধ্যে একজন। আমি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। ওঁকে বিব্রত করতে চাই না। নিজেও বিব্রত হতে চাই না।’’