ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা রবিবার নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হল। প্রায় নয় বছরের লড়াই, একের পর এক মামলা-মোকদ্দমা, দুর্নীতির অভিযোগ ও বিতর্ক পেরিয়ে এদিন দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় পরীক্ষা। রাজ্যের মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার ভিনরাজ্যের পরীক্ষার্থীও ছিলেন, যা মোট অংশগ্রহণকারীর প্রায় ১০ শতাংশ।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অনেক পরীক্ষার্থীই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ ছিল এবং স্কুল পাঠ্যক্রম থেকেই অধিকাংশ প্রশ্ন এসেছে। ফলে প্রস্তুতি অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে সুবিধা হয়েছে। অনেকেরই দাবি, পরীক্ষার আয়োজন ও নিরাপত্তার দিক থেকেও এ বার কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তবুও চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে। এক পরীক্ষার্থী জানান, “সরকারি ব্যবস্থায় পরীক্ষা ভালভাবে সম্পন্ন হলেও, শেষ পর্যন্ত চাকরি যোগ্য প্রার্থীর হাতে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশের উপর।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর সুপ্রিম কোর্ট পুরো প্যানেল বাতিল করে দেয়। সেই ঘটনায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি খারিজ হয়ে যায়। আদালতের নির্দেশেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। তবে নতুন পরীক্ষার আগেও বিতর্ক থামেনি। যাঁদের আদালত ‘দাগি’ প্রার্থী বলে চিহ্নিত করেছিল, তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও দাগি প্রার্থী নতুন পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। সেই নির্দেশ মেনে কমিশন ১,৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে।
যোগ্য চাকরিহারাদের একাংশ অবশ্য এই পরীক্ষাকে এখনও ‘অসম লড়াই’ বলেই মনে করছেন। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা বয়সে অনেক ছোট বা সদ্য ছাত্র, তাঁরাই এখন তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী। এমনকি ইনভিজিলেটর হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন অনেক কম বয়সি প্রার্থী। তাই মানসিক চাপের প্রতিবাদে কালো পোশাক পরে পরীক্ষা দেন বহু পরীক্ষার্থী।
নবম-দশম স্তরে মোট ২৩ হাজার ২১২টি পদ এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ১২ হাজার ৫১৪টি পদ মিলিয়ে ৩৫ হাজার ৭২৬ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এসএসসি। নবম-দশমের পরীক্ষা রবিবার হয়ে গেলেও, একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
