নিজস্ব সংবাদদাতা : এসএসসির পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা নিয়ে শনিবার বিকেল ৪টেয় জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। শেষবেলায় পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং কী কী করণীয় সে ব্যাপারে জেলাশাসকদের সঙ্গে খুঁটিনাটি আলোচনা হয়। বৈঠক শুরু হয় বিকেল চারটায়। কোনোরকম সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব। পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে যাতে পরিবহন সমস্যা না হয় সে ব্যাপারেও দেখতে বলা হয়। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও স্কুল শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরাও।
নবান্ন সূত্রে খবর, এদিন জেলা শাসকদের দায়িত্ব নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি বলেছেন, ‘‘এসএসসির গাইডলাইন মেনে পরীক্ষা করতে হবে। বাইর থেকে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।’’ কোথাও কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, সে সম্পর্কেও খোঁজ নেন মুখ্যসচিব।
জানা গিয়েছে, গত শুক্রবারও এ বিষয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন মুখ্যসচিব। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসনের অন্য আধিকারিকেরা। ওই বৈঠকে প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলাশাসক পদমর্যাদার আধিকারিকদের পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের।
পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়লে যাতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্য কন্ট্রোল রুমও খোলা হচ্ছে। এসএসসির সদর দফতরের পাশাপাশি সব ক’টি আঞ্চলিক দফতরেও কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। সকাল ৮টায় খুলে যাবে এসএসসির কন্ট্রোল রুম। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফেও সকাল ১৯টা থেকে খোলা হচ্ছে একটি কন্ট্রোল রুম।
শনিবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এক্স হ্যান্ডেলে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ৬৩৬টি কেন্দ্রে নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে তৎপর।
রবিবার নবম-দশমে নিয়োগের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,১৯,৯১৯। মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ৬৩৬। ১৪ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ পরের রবিবার একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগের পরীক্ষা। তাতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২,৪৬,৫০০। মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ৪৭৮। এসএসসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সকলেই আবার আবেদন করেছেন। গত বারের চেয়ে এ বার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত আড়াই লক্ষ বেশি।
এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারও এই পরীক্ষা নিয়ে শনিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরু হবে দুপুর ১২টা থেকে। তার আগে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে। পরীক্ষার্থীরাও পরীক্ষাকেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে প্রবেশ করতে পারবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের শেষ সময় বেলা ১১টা ৪৫। আর পরীক্ষাহলে প্রবেশের শেষ সময় দুপুর ১২টা। প্রশ্নপত্র বিতরণ শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৫ থেকে। তখন শুধু নিজের নামটুকুই লিখতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। উত্তর লেখা শুরু করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে।
চেয়ারম্যান জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশির জন্য থাকছে মেটাল ডিটেক্টর। অ্যাডমিট কার্ড পাওয়া যাচ্ছে এসএসসির ওয়েবসাইটে। সেখান থেকে পরীক্ষার্থীরা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। নিজের সই করা পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষাহলে কেউ ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না। স্মার্ট ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরও নিয়ে যাওয়া যাবে না। জলের বোতল আনলে তা স্বচ্ছ হতে হবে। হতে হবে স্বচ্ছ কলমও। তবে এসএসসি-ও পরীক্ষার্থীদের জন্য কলমের ব্যবস্থা করবে। অ্যাডমিট কার্ড বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ফোল্ডারে নিয়ে গেলে, তা-ও স্বচ্ছ হতে হবে। বিশেষ ভাবে সক্ষমেরা আধ ঘণ্টা বেশি সময় পাবেন। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ হল থেকে বেরোতে পারবেন না।
২০১৬ সালের এসএসসির পরীক্ষায় ওএমআর শিট কারচুপির ঘটনা ঘটেছিল। তাই এ বার ওএমআর নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে কমিশন। নতুন নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা ওএমআরের কার্বন কপি সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, কড়া সুরক্ষায় রাখা হয়েছে প্রশ্নপত্র। যদি কেউ বেআইনি ভাবে কিছু করার চেষ্টা করেন, আধঘণ্টার মধ্যে তিনি ধরা পড়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, ‘‘৩ লক্ষ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী রবিবার পরীক্ষা দেবে। প্রতিটি প্রশ্নপত্রের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সিকিউরিটি ফিচার। অ্যাডমিট কার্ড স্ক্যান করারও ব্যবস্থা থাকবে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রই স্পর্শকাতর আমাদের কাছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বেরোতে পারবেন না।’
