নিজস্ব সংবাদদাতা : সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশনের যে খসড়া তৈরি করেছে তা পড়ে ‘ভালো লেগেছে’ বলে জানালেন চাকরি হারা শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা। তবে সোমবার রাজ্যের শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “নোটিফিকেশন না দিয়ে চাকরিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হোক।“
বিকাশভবনে শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে চাকিরহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা বলেন, “আমরা বলেছি, নোটিফিকেশন আমরা চাইছি না। এখন সরকার দায়িত্ব নিয়ে, যাতে কোনওভাবে পরীক্ষা না হয়ে, নোটিফিকেশন না দিয়ে যাতে আমাদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই ব্যবস্থাটা করুক।“
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের প্রতিনিধিরা সোমবার বিকাশভবনে শিক্ষাদ ফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় ছিলেন শিক্ষা দফতরের মুখ্যসচিব বিনোদ কুমার ও সেক্রেটারি শুভ্র চক্রবর্তী। এই আলোচনায় উঠে আসে রিভিউয়ের বিষয়ে সরকারের কী অবস্থান। চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের তরফে বৃন্দাবন ঘোষ জানিয়েছেন, “রিভিউ করার বিষয়ে সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন যে ড্রাফ্ট তৈরি করেছে, সেটা যথার্থ এবং স্ট্রংলি যাতে সমস্ত যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা ওঁরা খুব স্ট্রংলি উপস্থাপন করেছেন। আমরাও দেখেছি, খসড়া বেশ ভালই হয়েছে। কিন্তু, সেই রিভিউ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের যে ভূমিকা, যে তৎপরতা সে বিষয়ে আমাদের একটা প্রশ্ন ছিল। ওঁরা বলেছেন, রিভিফ গ্রহণ করার বিষয় তো পুরোপুরি রাজ্য সরকারের হাতে থাকে না, সেটা সুপ্রিম কোর্টের একটা প্রসিডিওর বজায় রেখে হয়।“
তবে আংশিক সন্তুষ্ট হলেও এখনও বেশ কিছু অস্পষ্টতা থেকে যাচ্ছে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে। তাঁরা জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকারের যে রিভিউ ফাইল সেটা ডিফেক্ট ক্লিয়ার হয়েছে। কমিশনেরটা সম্ভবত হয়নি। আমাদের প্রশ্ন ছিল, সামার ভ্যাকেশন চলছে। জুন মাসের এক তারিখ পর্যন্ত যে একটা পার্ট হিয়ারং হবে, সেক্ষেত্রে কি রিভিউ অ্যাকসেপ্ট হতে পারে ? ওঁরা বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে ওঁরা নিশ্চয়তা দিতে পারেননি।“
সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলনকারী যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের মঞ্চ জানিয়েছে, “আমরা দাবি করেছিলাম, সমস্ত যোগ্যের চাকরি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তা যেন পালন করেন। রিভিউয়ের মধ্যে দিয়েই যেন আমাদের চাকরি সুনিশ্চিত করা হয়। সেক্ষেত্রে ওঁরা বললেন, সুপ্রিম কোর্টে আমরা নিজের থেকে এভাবে কিছু করতে পারি না। আমাদের জাজমেন্ট অর্ডার মানতে হবে”।
এদিন বৈঠকে ছিলেন না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এ ব্যাপারে অবশ্য কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি চাকরিহারারা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চেয়ে ফের চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকারা।
