নিজস্ব সংবাদদাতা : এসএসসি কাণ্ডে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি-র চাকরিহারা রাজ্য সরকারের দেওয়া ভাতা পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঝুলে আছে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর। এই মামলায় শুনানির সময় বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই ভাতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর জিজ্ঞাসা ছিল, “হঠাৎ করেই কেন এত তাড়াহুড়ো করে ভাতা ঘোষণা করা হল ? আর ২৫ হাজার বা ২০ হাজার, এই অঙ্ক কি ভাবে ঠিক হল ? কীসের ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হল ?”
নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে চাকরি হারানো গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি প্রার্থীদের ভাতা দেওয়া হবে কিনা, এই বিষয়ে শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ চূড়ান্ত রায় দিতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই মামলা চলছে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। ফলে রাজ্যের ঘোষিত ভাতা কি বহাল থাকবে ? নাকি বন্ধ হয়ে যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে হাজার হাজার চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো গ্রুপ সি প্রার্থীদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি-দের ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে বলে গত মে মাসে ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তারপরই এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় আইনি লড়াই। সরকারের এই ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় একাধিক পক্ষ। তাদের দাবি, এই ভাতা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিচারপতি অমৃতা সিনহাও এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, কোনও আলোচনাই হয়নি, কোনও স্ক্রুটিনিও হয়নি। তাহলে এত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কেন ?
এর উত্তরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, ভাতা ঘোষণার সিদ্ধান্ত আইনের পরিপন্থী নয় এবং মামলা গ্রহণযোগ্য কিনা, সেটাই প্রথমে বিবেচনা করা উচিত। এর উত্তরে মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, “কে মামলা করবে তা কি রাজ্য ঠিক করে দেবে ?”
দুর্নীতির কারণে ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল থেকে প্রায় ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। যার মধ্যে রয়েছেন গ্রুপ সি ও ডি-তে কর্মীরাও। সেই নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর রাজ্য সরকার ওই ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তখন ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীরাও সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার শুধুমাত্র চাকরিহারাদের কথা ভাবছে, তাঁদের কথা ভাবা হচ্ছে না। এর ফলে এই মামলায় কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। সবমিলিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট কি রায় দেয় সেই দিকে সকলে তাকিয়ে রয়েছেন।
