ওঙ্কার ডেস্ক: ডাক্তারি পড়ুয়া। স্বপ্ন অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের সেই ২১ বছর বয়সী ছাত্র নিজেই পরীক্ষা চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হল। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কলকাতার পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানে চিকিৎসকদের তৎপরতায় নতুন জীবন লাভ করে ওই পড়ুয়া।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পড়ুয়ার নাম মনোরঞ্জন মুদী। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সে। মঙ্গলবার পরীক্ষা চলছিল কলেজে। সেই সময় আচমকাই বুকে ব্যথা অনুভব করে মনোরঞ্জন। সারা শরীরে ঘামতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই পরীক্ষার হলে লুটিয়ে পড়ে। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা করে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করে। বুধবার তাকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার প্রথমসারির এই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
পিজি হাসপাতালে মনোরঞ্জনকে ভর্তি করার পর তার চিকিৎসার বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। যদিও সেই বোর্ডের সদস্য চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয় চিকিৎসার পদ্ধতি নিয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে বোর্ডের একাংশ অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টি না করার পক্ষেই অবস্থান নেয়। অন্য দিকে বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টির পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটার বয়স মাত্র ২১ বছর, তার ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। তাই ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না। রিপোর্ট অনুযায়ী, ধমনিতে গুরুতর ব্লক রয়েছে, তাই অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টি করাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।’ অবশেষে চিকিৎসক মণ্ডলের মত মেনেই অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টি করা হয়। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মনোরঞ্জন। এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে খবর মনোরঞ্জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
