আচমকা ছুরির আঘাত। মাঝ আকাশে ‘শত্রু’ হয়ে উঠলেন সহ-পাইলট। কিন্তু তারপরেও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর।গুরুতর জখম হয়েও ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু-র প্রাণ বাঁচিয়ে এখন গোটা বিশ্বের চোখে তিনি ‘নায়ক’। বুধবারের ওই ভয়াবহ ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও আশার খবর দিল সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরের হাসপাতালে স্মিতের চিকিৎসা চলছে। তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ হেলথ বুলেটিন এখনও না এলেও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস। ইতিমধ্যেই স্মিতের পরিবার তাবুকে পৌঁছেছে।
কী হয়েছিল ফ্লাইটে?
বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী, যার মধ্যে ২৭ জন শিশু। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে উড়ানের আড়াই ঘণ্টা পর সব ঠিকঠাক চলছিল। বিমানটি তখন জর্ডানের আকাশে প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায়। আচমকাই ককপিটের ভিতরেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান ওমানি সহ-পাইলট। শুধু কোপানোই নয়, বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টাও করেন তিনি। এর জেরে বিমানটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিট থেকে প্রথমে ৭৭০০ অর্থাৎ সাধারণ জরুরি সংকেত এবং তার পরেই ৭৫০০ অর্থাৎ হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠানো হয়।
বিমানে থাকা এক দন্তচিকিৎসক শোতা মোসায়েভ জানিয়েছেন, স্মিতের মাথা ও হাতে একাধিক গভীর ক্ষত হয়, প্রচুর রক্তপাত হয়। কিন্তু গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের লক করা দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। সেই সুযোগেই যাত্রী ও ক্রু-রা ভিতরে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করেন।
বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা ফ্লাইদুবাইয়েরই আরও দুজন অফ-ডিউটি পাইলট এর পর ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাঁদের তৎপরতাতেই বিমানটি সৌদির তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাকারী সহ-পাইলটকে গ্রেফতার করেছে।
বলে রাখা ভালো, মুম্বইয়ের ঘাটকোপারের বাসিন্দা স্মিত দীর্ঘ ১১ বছর স্পাইসজেটে ছিলেন। সেখানে তিনি সিনিয়র কমান্ডার এবং লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতেন। ২০২২ সালের জুন মাস থেকে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে বোয়িং ৭৩৭ ফ্লিটের ক্যাপ্টেন। তাঁর মোট উড়ান অভিজ্ঞতা প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা। তাঁর ভাইও আকাশা এয়ারে পাইলট।