নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: সোমবার দিল্লির রাস্তায় শক্তি প্রদর্শনের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যের ছবি ধরা পড়ল রাহুল গান্ধীর ‘সুনহেরি বাগ রোডে’র বাসভবনে। সূত্রের খবর, সেখানে চা-চক্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাতে যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডি জোটের একাধিক শরিক দল গুলি। এছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। আড্ডায় আগামী দিনের রণকৌশল কী হবে, তা নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি সূত্রের।
এই বৈঠকে উপস্থিতির মাধ্যমে আসলে ঐক্যের বার্তাই দিতে চাইছে জোটের শরিক দলগুলো। জানা যাচ্ছে, গতকাল বৈঠকে ২২ জন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা গোষ্ঠীর সাংসদরা হাজির ছিলেন, যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, সম্প্রতি এই দুই দলের বিরুদ্ধেই সংসদে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।
গতকাল বৈঠকে মেজাজ ছিল চড়া। সোমবারের সফল প্রতিবাদ এবং তারপর সুপ্রিম কোর্টে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর এই বৈঠককে ঘিরে চর্চা শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে। বৈঠকে বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং বাংলার সাংসদরা আসন্ন দুর্গাপুজো নিয়ে আলোচনা করেন। সিদ্ধান্ত হয়, উৎসবের মরসুমে কয়েকদিন কোনও বিক্ষোভ বা ধর্না কর্মসূচি হবে না।
অন্যদিকে বৈঠকে উল্লেখযোগ্যভাবে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি থেকে আপাতত দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কংগ্রেস ও অন্যান্য দল। যে বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে বেড়েছে চাপানউতোর। তবে কি সিজেপির ঘাড়ে বন্দুক রেখেই আগামীর পথ পরিষ্কার রাখতে চাইছে রাহুলরা! উঠছে প্রশ্ন।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আইসার নেহা বোরা’র উপস্থিতি। দিল্লিতে আন্দোলনের শুরুর দিন থেকেই যাকে কেন্দ্র করে বহু চর্চা হয়েছে। পরে রাহুল, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেও একই সারিতে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে তাঁকে। এমতাবস্থায় এই ঘটনাকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কী কংগ্রেসের ভিতরে বামপন্থী স্রোত বইছে? কানহাইয়া কুমার সিপিএম থেকে কংগ্রেসে আসার পর আরও কেউ একই পথে হাঁটবেন কিনা, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাতিল করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করবে ইন্ডিয়া জোট। আগামী দিনে বিরোধীরা কী পদক্ষেপ করে এবং এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া চাপ তারা কীভাবে ধরে রাখে, সেদিকেই এখন নজর।