স্পোর্টস রিপোর্টার : ভাল খেলেও হার ইস্টবেঙ্গলের। মঙ্গলবার যুবভারতীতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচে ইরাকের আল শোরতার বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়ে গিয়েও ২-৩ গোলে হেরে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান( ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট) খারাপ করে ফেলল লাল হলুদ। জর্ডনের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও ২ গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করেছিল লাল হলুদ ব্রিগেড। ভাল শুরু করেও পরে খেলা থেকে হারিয়ে যাওয়ার কারণে ইস্টবেঙ্গলের হার। এই রোগটা ইস্টবেঙ্গল সারাতে পারেনি। সেখানে আল শোরতা শুরুটা খারাপ ভাবে করলেও পরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ৩-২ গোলে জিতে গ্রুপের ২ টি ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের অবস্থানটা ভাল করে নিল।
এসিএল ২-র প্রথম ম্যাচে ওমানের আল সিবকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ইরাকের আল শোরতা। সেখানে ইস্টবেঙ্গল জর্ডনের মাঠে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও পরে ২ গোল হজম করে গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার সুযোগটা হারায়। লাল হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস যখন ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ৩ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, তখন আল শোরতা কোচ সামি ট্রাবেলসির মুখেও ছিল অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে গ্রুপে নিজের দলের অবস্থান আরও ভাল করার আত্মবিশ্বাস। সেই লক্ষ্য শেষপর্যন্ত বাজিমাত করে গেলেন আল শোরতার সামি ম্যাচ জিতে।
শিল্ড ফাইনাল ডার্বি হেরে যাওয়ার পর থেকেই হাবাস রীতিমতো তেতে আছেন। সেটা তাঁর কথাবার্তায় ধরা পড়েছে বারবার। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রতিকূল পরিস্থিতি, সূচী ও মাঠে খেলাটা তাঁর একেবারেই অপছন্দ ছিল। কিন্তু নানা কারণে তাঁকে খেলতে হলেও সেটা মন থেকে মানতে পারেননি। হাবাসের পছন্দের টুর্নামেন্ট সবসময় এসিএল ও আইএসএল। আর তাই শিল্ডের হারের পর আল শোরতার বিরুদ্ধে এসিএল ২-র ম্যাচ ঘুরে দাঁড়াতে বেছে নেবেন হাবাস, এটা জানাই ছিল। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার স্বার্থে হাবাস ৪-৪-২ ছকে শুরুতেই একসঙ্গে ব্যবহার করেন এডমুন্ড ও ডেভিডকে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রাখতে। উল্টোদিক থেকে নিজের রক্ষণের ওপর চাপ সামলাতে স্টপারে আনোয়ার ও জিবুলেচের সামনে ডাবল ডিফেন্সিভ স্ক্রীণে জিকসন ও রশিদকে রাখেন হাবাস। জিকসনের ভুমিকা মূলত রক্ষণাত্মক হলেও, রশিদকে বাড়তি স্বাধীনতা দিয়েছিলেন রক্ষণ সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ শানানোর।এদিন লাল হলুদ কোচ আন্টেনিও লোপেজ হাবাস বলেন, ‘ফলাফলে আমি খুশি নই। তবে আমার মনে হয়, আজ আমাদের ম্যাচ জেতার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। আমরা অন্তত পাঁচ-ছটা পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করেছি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়েও আমরা পিছিয়ে ছিলাম না। কিন্তু এত সুযোগ তৈরি করেও আমরা মাত্র দুটো গোল করেছি। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেছে। এটাই আজকের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ম্যাচটা জিততে পারিনি। অথচ গোল করার জন্য আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। বিরতিতে ফুটবলারদের বলেছিলাম, আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয়, ম্যাচের শেষদিকে দু’তিন মিনিটের জন্যও যদি আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারতাম, তাহলে ফল অন্যরকম হতে পারত।’দর্শকদের সমর্থনও আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দল যখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়, তখনই সমর্থকদের পাশে থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। শুধু দল জিতলে নয়, হারলেও সমর্থকদের পাশে থাকা উচিত।’
গোলের একাধিক সুযোগ নষ্টের পাশাপাশি নড়বড়ে রক্ষণ। কিছু সহজ গোল হজম করেছে ইস্টবেঙ্গল। ফুটবলারদের মনঃসংযোগের অভাব ছিল? হাবাস বলেন, ‘রক্ষণে আমরা কিছু বোকামি করেছি। কয়েকটা মুহূর্তে ফুটবলারদের মধ্যে মনঃসংযোগ, দায়বদ্ধতা এবং সতর্কতার অভাব স্পষ্ট ছিল। রক্ষণ সামলানোর সময় এই ভুলগুলো করা যায় না। বিষয়টা খুবই পরিষ্কার।আমি আত্মবিশ্বাসী। এখনও আমাদের দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ এবং দুটো ঘরের মাঠের ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে।’