ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুরের ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে ক্ষোভের বশেই এক পড়ুয়া আইআইটি কানপুরের ওয়েবসাইট হ্যাক করেন। শুধু আইআইটি কানপুরই নয়, আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটেও অনুপ্রবেশের দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার সিকিউরিটি এবং এথিক্যাল হ্যাকিং নিয়ে কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি সম্প্রতি আইআইটি কানপুরের একটি সাইবার সিকিউরিটি কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এরপরই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে একটি বার্তা রেখে যান, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তাঁর উদ্দেশ্য কোনও ধরনের আর্থিক ক্ষতি করা বা তথ্য চুরি করা নয়, বরং নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা। ওই বার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, ভর্তি প্রক্রিয়ার আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে থাকা একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে আইআইটি কর্তৃপক্ষকে ই-মেল করে সতর্ক করেছিলেন। পাশাপাশি নিজের আবেদন পুনর্বিবেচনারও অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই ই-মেলের কোনও উত্তর তিনি পাননি বলেই অভিযোগ। এরপরই তিনি ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করে নিজের বক্তব্য প্রকাশ্যে আনেন বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার পর আইআইটি কানপুর কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রাথমিক তদন্তে কীভাবে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে অনুপ্রবেশ করা সম্ভব হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে পুরো ঘটনার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়। তবে এই ঘটনায় আইআইটি কর্তৃপক্ষের অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রমী বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতার মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে তিনি সত্যিই উচ্চমানের সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতার অধিকারী এবং তাঁর উদ্দেশ্য ক্ষতিকর ছিল না, তাহলে তাঁকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।