ওঙ্কার ডেস্ক : SIR-এর তথ্য যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু যে পরিমান কাজ বাকি তাতে নির্ধারিত দিনে তথ্য যাচাইয়ের নিস্পত্তি সম্ভব নয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রকাশ করতে হলে বিচারকদের সংখ্যা বাড়ানো চাই। পরিস্থিতির কথা জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছ থেকে ইতিমধ্যে রিপোর্টই গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার রাজ্যের SIR নিয়ে জরুরি শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দিল, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ভিন্রাজ্য থেকেও বিচারক নেওয়া যাবে।
জরুরি ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাজ্যের SIR মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে। এদিন মামলাটি প্রথমে ওঠায় তার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এখানেই উঠে আসে হাই কোর্ট থেকে পাঠানো রিপোর্টের প্রসঙ্গও। প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, হাই কোর্ট থেকে বলা হয়েছে যে এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত লোকের অভাব রয়েছে। প্রতিদিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি করলেও, প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে।
কিন্তু সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হোক এটাই চাইছে সুপ্রিম কোর্ট। তাই আদালত জানিয়ে দেয়, এই কাজে ভিন্রাজ্য থেকেও বিচারক নেওয়া যাবে। প্রধান বিচারপতি জানান, দুই প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর কাজে আনা যাবে। পাশাপাশি তাঁর পরামর্শ, তিন বছর বা তার বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ পদমর্যাদার অফিসারদেরও নেওয়া যাবে। কাজে নেওয়া যাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও। একইসঙ্গে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কোনও আবেদন এলে তা সহানুভূতির সঙ্গে ও জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করার কথা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের। যদিও ভিন্রাজ্য থেকে আসা বিচারকদের ভাষাগত সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে রাজ্য। আদালতে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই সওয়ালই করেন। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এলে তাঁরা বাংলা বুঝতে পারবেন না।”
তবে নির্ধারিত সমসীমার মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের এই বিপুল চাপ সামলাতে গেলে অন্য কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি কান্তের মন্তব্য, “এই অবস্থায় আমাদের কিছু করার নেই। ইতিহাস বলছে এক সময় ওই রাজ্যগুলি একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল। তাই স্থানীয় উপভাষা বা ভাষার ধরন থেকে কিছুটা বুঝতে পারবেন।”
রাজ্যে এসআইআর-এর কাজে যে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের অভাব রয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টে উঠে আসা পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। প্রধান বিচারপতি জানান, পশ্চিমবঙ্গে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি (তথ্যগত অসঙ্গতি) এবং আনম্যাপড তালিকায় রয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ নাম। এর মধ্যে জেলা বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার প্রায় ২৫০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৫০ লক্ষ দাবি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা সময়ের মধ্যে SIR-এর কাজ শেষ করা বাস্তিবিকই অসম্ভব,। সুপ্রিম কোর্টও বুঝতে পারেওছে এই কাজে আরও লোকবল প্রয়োজন। তবে কাদের এই কাজে ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কলকাতা হাই কোর্টের উপরেই ছেড়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা কমিশনের। হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে শনিবারের বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ইতিমধ্যেই আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত বিচারকের ছুটিও বাতিল করেছে হাই কোর্ট। একই রকম দ্বিধায় কমিশনও। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের আইনজীবী জানান, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের কোনও সময়সীমা নেই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেও এই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় মিলছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, পরে যে তালিকাগুলি প্রকাশিত হবে, সেগুলিকেও ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা হিসাবেই ধরা হবে। একই সঙ্গে আদালত এ-ও জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া হবে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই। ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে জমা নথিই যে গ্রহণ করা হবে, তা-ও স্পষ্ট করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,, “আজ সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসাবে এই মামলাটি শোনে। আমরা কাল রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ জানতে পারি। প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁকে একটি স্টেটাস রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন ২৫০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আরও প্রয়োজন। সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সিনিয়র এবং জুনিয়র ডিভিশনের সকল বিচারককে নেওয়া যেতে পারে। কাদের নিয়োগ করা হবে তা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ঠিক করবেন। এ ছাড়া আগের নির্দেশই বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও নেওয়া যেতে পারে। এর পরেও পর্যাপ্ত না হলে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চেয়ে রিকুইজ়িশন করতে পারেন প্রধান বিচারপতি।”
তিনি আরও বলেন, “বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে কাজ করছেন। অন্য কেউ কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না। ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পরে বেশ কিছু অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কোনও নির্দেশ দেওয়া যাবে না। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে কাজ করেন। তাঁদের কোনও নির্দেশ দেওয়া যাবে না।”
