ওঙ্কার ডেস্ক : স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল নিয়ে সব কটি পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে রাজ্য এবং এসএসসির রিভিউ পিটিশনও খারিজ করা হল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে এই পুনর্বিবেচনার মামলা চলছিল। এর ফলে যেমন বড় ধাক্কা খেলেন চাকরিহারারা, তেমনই বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকারও।
২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন, চাকরিহারাদের একাংশ-সহ বিভিন্ন পক্ষ। ৫ অগস্ট সেই নিয়ে শুনানি শেষ হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগে এর আগে গত ৩ এপ্রিল এসএসসির ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দেয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, তথ্য সঠিক না থাকার কারণে যোগ্য এবং অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণে পুরো প্যানেলটাই বাতিল করা হচ্ছে। শুধু প্যানেল বাতিল করা নয়, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এসএসসি-কে এমন নির্দেশও দিয়েছিল। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, চিহ্নিত অযোগ্যদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। তার প্রায় এক মাসের মাথায় এসএসসি এবং রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আর্জি (রিভিউ পিটিশন) জানায়। আবেদন জানায় চাকরিহারাদের একাংশও।
আগে রায়ে বদল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তাদের আবেদন ছিল, এত শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। অনেক স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শূন্য হয়ে যাবে। ফলে ক্ষতি হবে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের। গত ১৭ এপ্রিল পর্ষদের ওই আবেদন মেনে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। শর্তসাপেক্ষে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, দাগি অযোগ্যদের বাদ রেখে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকেরা স্কুলে যেতে পারবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে। তবে ৩১ মে-র মধ্যে রাজ্যকে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। ওই নির্দেশ মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য। পাশাপাশি, রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। সেই আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
