ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের সংবিধান নাগরিকদের বাক্ স্বাধীনতার অধিকার স্বীকার করলেও তা সীমাহীন নয় সুপ্রিম কোর্ট ফের একবার এই কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল। বিচারপতি বিভি নাগরত্না এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার জানিয়েছে, সংবিধানের ১৯ (১) (ক) অনুচ্ছেদে বাক্ স্বাধীনতার কথা বলা হলেও ১৯ (২) অনুচ্ছেদে তার যৌক্তিক সীমাবদ্ধতার কথাও স্পষ্ট করা আছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “মত প্রকাশের অধিকার মানেই যা খুশি বলা নয়। নাগরিক অধিকারের নামে কেউই ইচ্ছেমতো সমাজমাধ্যমে যে কোনও কথা পোস্ট করতে পারেন না।’’ বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। সে কারণে সমাজমাধ্যমে যদি কেউ বিভাজনমূলক বা উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়িয়ে দেয়, তাহলে তা মুছে ফেলার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে এবং সরকারের কর্তব্যই হল এমন পোস্ট সরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে কলকাতা-সহ দেশের একাধিক রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্ট এদিন ওয়াজিদ খান নামের একজনের উপর হওয়া মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। মামলাকারী ওয়াজিদ খান অভিযোগ করেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে হিন্দু দেবদেবীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে, খানও পাল্টা অভিযোগ করেছেন, শর্মিষ্ঠা পানোলি নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন, অথচ প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে আপাতত জামিনে মুক্ত ওয়াজিদ খান। তবে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, মত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষিত থাকলেও তা অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার লাইসেন্স নয়। বেঞ্চের মতে, সমাজমাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হলে, তা কখনও বাক্ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে বিশেষজ্ঞ মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। সমাজমাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ঘৃণাত্মক বক্তব্য, গুজব এবং উসকানিমূলক পোস্টের জেরে দেশে যে অশান্তি ও বিভাজনের আবহ তৈরি হয়, তা রুখতে এই রায় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে নির্দেশ দিচ্ছে বলেই মত আইনজ্ঞদের। আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, এই পর্যবেক্ষণের ফলে প্রশাসন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণাত্মক বা বিভাজনমূলক পোস্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আরও উৎসাহী হবে। তবে কোথায় বাক্ স্বাধীনতা আর কোথায় সীমাবদ্ধতা সেই সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট করার জন্য প্রয়োজনে নতুন দিশা নির্দেশিকা আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত শীর্ষ আদালতের একাধিক পর্যবেক্ষক আইনজ্ঞের।
