ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। বৃহস্পতিবার এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে প্রথম বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সেই পালাবদলের পর প্রশাসনিক প্রধানের কুর্সিতে বসে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল খাওয়াবে ধর্মীয় সংস্থা ইসকন। বৃহস্পতিবার রথযাত্রার দিন মেচেদা থেকে মুখ্যমন্ত্রী গোটা রাজ্যের জন্য এই পরিষেবার দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ‘আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতায় চালু করছি। তার পরে নদিয়া, তার পরে রাজ্যের সমস্ত জেলায় করব। মিড-ডে মিল ইসকন খাওয়াবে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা মিড-ডে মিল খায়। তাদের পৌষ্টিক আহার ইসকন দেবে।’ উল্লেখ্য এর আগে সোমবার বিকাশ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘১ আগস্ট থেকে কলকাতা-সহ বড় একটা অংশে ইসকন মিড ডে মিল বিতরণের দায়িত্ব নিচ্ছে। এজন্য কিছু ভর্তুকিও দিচ্ছে। হাই-কোয়ালিটির খাবার দেবে।’ তার আগে গত ২২ জুন বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ‘শ্যামাপ্রসাদের দেখানো পথেই বাংলা চলবে। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় বাংলা চলবে। রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম, ইসকনের দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গ চলবে। এই সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না। আমরা ইসকনকেই মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি।’
যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়। কারণ ইসকন মিড ডে মিলে ডিম দেবে না বলে জল্পনা ছড়ায়। আর ডিম পাতে না থাকলে পড়ুয়াদের পুষ্টির জোগান কী ভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। এমনকি যাঁরা মিড ডে মিল খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত সেই কর্মীরা কাজ হারাবেন বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়। যা নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে। এই আবহে গোটা রাজ্যের স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।