নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চলতি বছরের শেষেই কলকাতা-সহ বেশ কয়েকটি পুরসভায় নির্বাচন। তার আগেই কলকাতা পুরসভা ও তার আশপাশের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি। সোমবার টালিগঞ্জে পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুললেন তিনি। জানালেন, মমতা জমানায় কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার পুকুর বেআইনি ভাবে বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেপথ্যে পূর্বতন সরকারের কাউন্সিলরদের মদত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জোকা-হরিদেবপুর থেকে বারাসত-মধ্যমগ্রাম পর্যন্ত কেএমডিএ এলাকায় আগের সরকারের আমলে যারা ছিলেন, সেই স্কোয়ার ফিট কাউন্সিলররা পাঁচ হাজার পুকুর বুজিয়ে দিয়েছেন। শহরের পরিবেশ নষ্ট করতে যা যা করার, সব করেছেন তাঁরা।”
এদিন বরো ১১-র ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি জলাশয় সংস্কারের কাজের সূচনা করেন তিনি। ইটখোলা-১ ও ইটখোলা-২ নামে পরিচিত সবুজবলয় ও জলাশয় দুটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে দুটি প্রকল্পে এই কাজ হয়েছে। একটির জন্য ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৩২৯ টাকা, অন্যটির জন্য ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৮৮ টাকা। জলাশয় দুটির নতুন নামকরণ করেছেন তিনি — ‘শিব জলাশয়’ এবং ‘শক্তি জলাশয়’।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিকাশি বিভাগ কেন্দ্রের এনডিএমএফ প্রকল্পে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। সেই অর্থে পরিবেশবান্ধব কাজ হচ্ছে। কুঁদঘাট মেট্রো স্টেশনের নিচে আদি গঙ্গার ওপারে পূর্ব পুঁটিয়ারি বাজারের কাছে দুটি বড় পুকুর সংস্কার করা হয়েছে — একটি প্রায় চার একর, অন্যটি তিন একর জায়গা জুড়ে। জল দূষণ রুখতে চারপাশে পাঁচিল তোলা হয়েছে। মজে যাওয়া জলাশয় দুটিকে দখলমুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি।
অনুষ্ঠানে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমাদের পুরমন্ত্রী খুব কাজের মানুষ। তিনি অফিসেও বসেন, রাস্তায় নেমেও কাজ করেন। কিন্তু কিছু লোক আছেন যাঁরা কিছুই করেননি। তাঁদের হাতে শুধু মোবাইল ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া আছে। আমি মন্ত্রীকে বলেছি, ওঁদের এড়িয়ে চলুন। ওঁরা জনতার কাছে প্রত্যাখ্যাত, পুরভোটেও প্রত্যাখ্যাত হবেন।”
একই মঞ্চ থেকে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে অভিনন্দন জানান শুভেন্দু। অরূপ বিশ্বাসের নাম না নিয়ে বলেন, “পাপিয়াদি বড় নেতা ও মন্ত্রীকে হারিয়েছেন, তাই তাঁকে ধন্যবাদ দিতেই হবে।”