ওঙ্কার ডেস্কঃ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩ তম জন্মদিন। সিমলা স্ট্রিটে সাজো সাজো রব। বাংলার জেলার জেলায় বিভিন্ন প্রান্তে স্বামী জীর জন্মদিন উদযাপন হচ্ছে। কোথাও ম্যারাথন তো কোথাও যোগাসনের অনুষ্ঠান। কলকাতায় সিমলা স্ট্রিটে শ্রদ্ধা জানাতে তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আগমণ। আর তাতেই স্বামীজীর জন্মদিনে ছন্দপতন। পোস্টার ঘিরে স্বামীজীর জন্মদিন বদলে গেল রাজনৈতিক অভিযোগ পালটা অভিযোগে।
সোমবার বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিমলা স্ট্রিটে পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারেরা। বিকেলে বিবেকানন্দের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে সেখানে যাওয়ার কথা অভিষেকের। তাই তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্বামীজির বাড়ির সামনে হোর্ডিংটি বসান জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। সেই হোর্ডিং ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ, হোর্ডিংটিতে কেবল অভিষেকের ছবি রয়েছে। স্বামীজির কোনও ছবি নেই। হোর্ডিংয়ে লেখা স্বাগতম যুবরাজ। বিজেপির দাবি, এই হোর্ডিং দিয়ে বিবেকানন্দকেই অসম্মান করেছে তৃণমূল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্যের শাসকদল। পাল্টা বিজেপির প্ল্যাকার্ড এবং হোডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
কটাক্ষর সুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘স্বামীজিই আসল যুবরাজ। আর কেউ যুবরাজ নয়।’’ শুভেন্দু আরও জানান, ‘‘আমি ৩৩ বছর ধরে এখানে আসি। প্রত্যেঅক বছর স্বামীজির জন্মদিনে আমি হোর্ডিং-ব্যা নার দিই। নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে দিই না। আর এরা, মুখ্যরমন্ত্রীর ভ্রাতুষ্পুত্রকে যুবরাজ লিখছে! আমি শুনেছি, এখানকার প্রধান মহারাজ আর কারও ছবি লাগাতে কাউন্সিলরদের বারণ করেছিলেন। তার পরেও এরা শোনেনি।’’
সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘একসময় এখানে স্বামীজি ঘুরে বেড়াতেন। এখন কয়লা চোর, গরু চোরেরা ঘুরে বেড়ায়। বাংলার মানুষের উচিত এদের উৎখাত করা। না হলে বিবেকানন্দের মতো প্রতিভা এই মাটিতে আর দেখা যাবে না।’’
পালটা ময়দানে নেমেছে তৃণমূলও। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ‘‘কেন্দ্রের মন্ত্রী বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বিবেকানন্দকে ‘কনফিউজ়ড লেফটিস্ট’ বলেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে বিজেপির মুখে বিবেকানন্দ নিয়ে জ্ঞান শুনব না।”
বিজেপির হোর্ডিং নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতাদের হাতে যে হোর্ডিং ছিল, তাতে স্বামীজির বাণী হিসাবে লেখা ছিল, ‘গর্ব করে বলো আমি হিন্দু’। সব মিলিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, অভিষেককে দলের সমর্থকেরা ‘যুবরাজ’ হিসাবে দেখেন। তাই ওই হোর্ডিং তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে স্বামীজির অপমানের কোনও সম্পর্ক নেই।
