ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর এক রাজনৈতিক জনসভায় ভয়াবহ পদদলিতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। অনুমোদন ছিল ৩০ হাজার মানুষের ভিড়ের জন্য, কিন্তু হাজির হয় ৬০ হাজারেরও বেশি। অনুষ্ঠান দেরিতে শুরু হওয়ায় ভিড়ের মধ্যে অধৈর্যতা বাড়ে এবং বেরোনোর পথে হুড়োহুড়ি থেকে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
পুলিশ সূত্রের খবর, সরকারি অনুমোদন ছিল প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ভিড়ের জন্য। কিন্তু বাস্তবে হাজির হন প্রায় ৬০ হাজার সমর্থক। এত বিপুল ভিড় সামলাতে না পেরে শেষমেশ ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশুও। হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও অনেকে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুমোদনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি মানুষের ভিড় সামলানোর মতো প্রস্তুতি ছিল না আয়োজকদের। শুরু থেকেই জনসভায় বিশৃঙ্খলার ছবি চোখে পড়ছিল। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে অধৈর্য বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি একেবারেই হাতের বাইরে চলে যায়। বেরনোর পথে ভিড়ের চাপ তৈরি হওয়ায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় পদদলিতের ঘটনা।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন শোকপ্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, শুধু ভিড়ের আধিক্যই নয়, আয়োজক ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটির কারণেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন উঠছে, অনুমোদনের সীমা ছাপিয়ে এত মানুষের জমায়েত কীভাবে হল এবং নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে এমন ঘাটতি কেন থেকে গেল। এই দুর্ঘটনায় গোটা তামিলনাড়ু শোকস্তব্ধ হয়ে রয়েছে।
