ওঙ্কার ডেস্কঃ প্রতিকূল জীবন। প্রতিকূলতার মধ্যেই এগিয়ে চলা। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসন জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছিলেন খালেদা পুত্র তারেক রহমান। দেশে ফেরার ৫ দিনের মাথায় মায়ের প্রয়াণ। বিএনপির চেয়ারপারসন তথা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের শোককেই শক্তিতে পরিণত করে তারেক প্রথমবার নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এবং দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হাজার অশান্তি, প্রতিকূলতার পর এবার ভোটে বাংলাদেশের মানুষ তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছেন।
দলের বিপুল জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেছেন বিজয় মিছিলের নামে কেউ যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে না পড়েন। শুক্রবার জুম্মার নামাজে সকলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির সূত্র বলছে, প্রায় দু’দর্শক পর ক্ষমতায় ফিরতে চলা দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই বিজয়কে ঘিরে উন্মাদনা যাতে কোন অশান্তির কারণ তৈরি না করে সে ব্যাপারে তিনি সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, আগামী ১৬-১৭ তারিখের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। নির্বাচনের আগেই একাধিক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল সরকার গড়ার দৌড়ে বিএনপি এগিয়ে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকেই চাইছেন অধিকাংশ বাংলাদেশি। ভোটেও সে ফলই মিলেছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেই সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কিছু অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৮ সেপ্টেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে জামিন দেয়। এরপর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে তিনি লন্ডন চলে যান। এরই মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান তারেকের ছোট ভাই। বিএনপির অভিযোগ, দেশে ফিরলে আওয়ামী লিগ সরকার তাঁকে জেলে আটকে রাখতো এই আশঙ্কায় তিনি আর দেশে ফেরেননি।
নির্বাসিত জীবন কাটানোই নয়, দেশে একের পর এক মামলায় যেবার হতে হয়েছে খালেদা পুত্রকে। ২০০৪ সালে বিএনপি জমানায় চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় হাসিনা সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করে। এছাড়া দুর্নীতির গুচ্ছ মামলা তো ছিলই। এর মধ্যে দুটি মামলায় তারেকের যাবজ্জীবন কারাবাসে সাজা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলাগুলি থেকে তারেক রহমানকে মুক্তি দেয়। ফলে মামলা মুক্ত হয়ে তিনি দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এবারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ অ দেশের মানুষের জন্য তিনি কী কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।
