ওঙ্কার ডেস্ক: তেজস্বী যাদবকে হত্যার চেষ্টা চলছে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনকে এক নতুন আলোড়নে ফেলে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেত্রী রাবড়ি দেবী। তাঁর দাবি, চারবার তাঁর পুত্র তথা বিহারের বর্তমান বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের উপর হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং গোপন সূত্রে তিনি খবর পেয়েছেন, সেই চক্রান্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।
রাবড়ি দেবীর সরাসরি অভিযোগ, এই হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকার ও বিজেপি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিকভাবে তেজস্বী যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই তাঁকে থামানোর এই চক্রান্ত আরও ভয়ানক রূপ নিচ্ছে। এমনকী রাবড়ির দাবি, সরকার ও তাদের শরিকরাই এই ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। তেজস্বী যাদব বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। একসময় তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেই ইন্ডিয়া জোটের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের তরফে এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা হয়নি, তবু আরজেডি তেজস্বীকেই সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
সম্প্রতি বিহার বিধানসভা ও বিধান পরিষদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হয়েছে। সেই অধিবেশনের সময়ই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন তেজস্বী। বিধানসভায় বিজেপি নেতা ও উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী তেজস্বীর উদ্দেশ্যে বলেন, “শাট আপ। আপনি একজন লুটেরার সন্তান।” এই মন্তব্যে উত্তাল হয় রাজনৈতিক মহল। প্রসঙ্গত, তেজস্বীর বাবা লালুপ্রসাদ যাদব পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সেই ইস্যুকেই টেনে এনে এই আক্রমণ শানান সম্রাট।
পাল্টা জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি রাবড়ি দেবী। তিনি বলেন, সম্রাট চৌধুরীকে ছোটবেলা থেকে চেনেন। পাটনার রাস্তায় তিনি দাদাগিরি করতেন, এমনকী মেয়েদের হেনস্থা করতেন বলেও অভিযোগ করেন রাবড়ি। তাঁর মন্তব্য, যাঁরা এখন তেজস্বীর মতো নেতাকে অপমান করছেন, তাঁদের অতীতও যে কলঙ্কমুক্ত নয়, তা মানুষ ভালো করেই জানে।বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করা হয়েছে। বিহার বিজেপির সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতার যদি নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রশাসন তা বিবেচনা করতেই পারে। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা অভিযোগ করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, তাঁর মতে, একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমানে তেজস্বী যাদব ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তবু রাবড়ি দেবীর আশঙ্কা, এই নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়, কারণ ষড়যন্ত্র চলছে অনেক গভীর স্তরে, যার ছায়া রয়েছে রাজনীতির শীর্ষ মহলেও। এই ঘটনায় বিহারের রাজনীতিতে যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই উত্তাপ কতদূর গড়ায় এবং এর প্রভাব রাজনৈতিক সমীকরণে কীভাবে পড়ে, সেদিকে এখন নজর গোটা রাজ্যের।
