ফ্লাইদুবাইয়ের আতঙ্ক
১৮০ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিতে যে হাড়হিম করা কাণ্ডটি ঘটল তা যে কোনো থ্রিলারকে হার মানায়। যদি না ওই বিমানে যাত্রীদের মধ্যে পাইলট না থাকতেন তাহলে বিমানযাত্রার ইতিহাসে আরও এক মর্মান্তিক ইতিহাসের সম্মুখীন হতাম আমরা। যাই হোক, অলৌকিকভাবে হলেও শেষপর্যন্ত বিমানটি রক্ষা পেল। বিশ্বজুড়ে বহু বিশেষজ্ঞ পাইলট এই অলৌকিক অবতরণের কথা বলছেন। তাঁদের বিস্ময়ের কথা উঠে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শক্তিশালী সি-১৭ পরিবহন বিমানের একজন সক্রিয় সামরিক পাইলটও একমত হয়েছেন, “বিমানটি নির্ধারিত সীমা এবং এয়ারলাইনের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তার যাবতীয় প্যারামিটার বহুগুণ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবুও এটি রক্ষা পেতে সক্ষম হয়েছে।” অবতরণের পর বিমানের যে দৃশ্য দেখা যায় তা নিঃসন্দেহে বিমূঢ় করে। বিমানটিরর ‘ভার্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজার’-এর সাথে যুক্ত অতি আবশ্যক ‘রাডার’ ছিঁড়ে পড়ে গিয়েছিল। অথচ এই রাডারই বিমানকে সোজা পথে চলতে সাহায্য করে। ভার্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজার বিমানকে ডানে-বাঁয়ে দুলুনি বা ‘ইয়য়িং’ থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, এর অংশ হিসেবে থাকা রাডারটি পরিস্থিতি অনুযায়ী নড়াচড়া করে সেই দুলুনি বা ‘ইয়য়িং’ গতিবিধিও নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ অতি জরুরি যন্ত্রাংশটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় রক্ষে পেয়েছে বিমানটি। এই কারণেই, বিমানের ১৮০ জনের প্রাণ রক্ষা করে বিশ্ব জুড়ে হিরোর সম্মান পাচ্ছেন বিমানের সাহসী পাইলট স্মিত মাচ্ছা। তবুও প্রশ্ন খোঁচা দিচ্ছে,, ফ্লাইদুবাই বিমানের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাকে আক্রমণ করার জন্য কুঠার কোত্থেকে পেল ওমানের ওই কো-পাইলট। বিষয়টি কি পূর্বপরিকল্পিত ? এর মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের যোগসাজশ আছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে। কিন্তু বিমানচলাচলের ক্ষেত্রে যে কঠোর নিরাপত্তা থাকা উচিত সেখানে কি গাফিলতি সামনে এলো না ? এই ঘটনা প্রমাণ করলো, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের যথেষ্ট দুর্ভাবনা রয়েছে।