দাঁতের সুস্থতা শুধু সুন্দর হাসির জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দাঁত ও মাড়ির একটি পরিচিত সমস্যা হলো ‘পাইরিয়া’, যা সাধারণভাবে মাড়ির সংক্রমণ ও দাঁতের চারপাশের টিস্যুর রোগকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সময়মতো যত্ন না নিলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে গুরুতর হতে পারে।
পাইরিয়ার সাধারণ লক্ষণ
পাইরিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো দাঁত ব্রাশ করার সময় বা এমনিতেই মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। মাড়ি ফুলে যাওয়া, লাল বা স্পর্শে ব্যথাযুক্ত হওয়া, মুখে দুর্গন্ধ এবং মাড়ি থেকে পুঁজ বের হওয়াও দেখা যেতে পারে। অনেকের দাঁতের গোড়া থেকে মাড়ি সরে যেতে শুরু করে এবং দাঁত আগের তুলনায় লম্বা দেখায়। সমস্যা বেশি হলে দাঁত নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকা এবং ঠান্ডা-গরম খাবারে অস্বস্তিও হতে পারে।
কীভাবে চিকিৎসা করবেন ?
মাড়ি থেকে নিয়মিত রক্ত পড়লে বা দুর্গন্ধ দীর্ঘদিন থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দাঁতের গায়ে জমে থাকা শক্ত প্লাক বা টারটার সাধারণ ব্রাশে দূর করা যায় না; প্রয়োজনে ডেন্টিস্ট স্কেলিং বা অন্যান্য পেশাদার চিকিৎসা করতে পারেন। রোগের মাত্রা অনুযায়ী আরও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
দাঁত সুন্দর ও সতেজ রাখার উপায়
প্রতিদিন অন্তত দুইবার, বিশেষ করে সকালে এবং রাতে, ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে প্রায় দুই মিনিট দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করতে ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করা উপকারী। অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার এবং ঘন ঘন মিষ্টি পানীয় খাওয়া কমিয়ে দিন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো মাড়ির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
পরিষ্কার জিহ্বা ও পর্যাপ্ত জল পানও মুখকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করলে দাঁত ও মাড়ির সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব।
মনে রাখবেন, সুস্থ দাঁত মানেই সুন্দর হাসি। তাই ব্যথা বা সমস্যা দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে প্রতিদিনের সঠিক পরিচর্যাকে অভ্যাসে পরিণত করুন।