নিজস্ব প্রতিনিধি: এ এক অনন্য মানসিক জোর আর শৈল্পিক কৌশলের গল্প। গল্পের কেন্দ্রে বাগনান-শ্যামপুর রোডের বেলপুকুরের বাসিন্দা ধনঞ্জয় পাত্র। উচ্চতা আড়াই ফুটের কাছাকাছি, কোমরের নিচের অংশ জন্ম থেকেই বিকল, সম্বল বলতে শুধু দু’টি হাত। সেই দু’হাতের ওপর ভর দিয়েই তাঁর চলাফেরা, তাঁর গোটা পৃথিবী। সরকারি খাতায় তিনি একশো শতাংশ শারীরিকভাবে অক্ষম। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় যখন গোটা পাড়া আলোয় সেজে উঠত, তখন ধনঞ্জয়বাবু নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন বাড়ির ভিতরেই। পাড়ায় তেমন কোনও দুর্গাপুজো হত না। কিন্তু একদিন দুই ভাইপোর আবদার রাখতে গিয়েই ঘটল ম্যাজিক।
প্রায় বছর দশেক আগের কথা। ভাইপোদের আবদার ছিল, বাড়িতেই দুর্গাপুজো করতে হবে। সেই আবদার মেটাতেই মনের জোরে এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ধনঞ্জয়বাবু। নিজের দু’হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় গড়ে ফেললেন দেড় ফুটের এক দুর্গা প্রতিমা। সেই ছোট্ট দুর্গাকে নিয়েই সেবার মেতে উঠেছিল পাত্র পরিবার। ধীরে ধীরে সেই ছোট্ট পুজোর খবর ছড়িয়ে পড়ে পাড়ায়। এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। আজ সেই পুজো আর শুধু পাত্র পরিবারের নয়, গোটা বেলপুকুর গ্রামের পুজো হয়ে উঠেছে।
এখনও এই পুজোর মূল শিল্পী ধনঞ্জয়বাবু নিজেই। মাটিতে বসে প্রতিমার বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি করেন তিনি, তারপর তাঁর দুই ভাইপো নাট-বল্টুর সাহায্যে সেই অংশগুলি জুড়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শিল্পকলাকে কুর্নিশ জানান এলাকার সমস্ত মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা সৌমিত্র দাসের কথায়, একজন বিশেষভাবে সক্ষম শিল্পীর এই লড়াইকে সম্মান জানাতেই তাঁদের এই পুজোকে ঘিরে এত উৎসাহ।