থাইরয়েডের সমস্যা বর্তমানে অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত একটি ছোট প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া, ওজন, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন কম বা বেশি নিঃসৃত হলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যার লক্ষণ কী কী ?
থাইরয়েডের সমস্যা মূলত দুই ধরনের—হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপারথাইরয়েডিজম।
হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ: এই অবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঠান্ডা বেশি লাগা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া, মুখ ফুলে যাওয়া, মন খারাপ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম দেখা দিতে পারে।
হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ: এই অবস্থায় হরমোনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এর ফলে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম, গরম সহ্য করতে না পারা, হাত কাঁপা, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা এবং ক্ষুধা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কখনও গলার সামনের অংশ ফুলেও যেতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যা হলে কী করবেন ?
উপরের লক্ষণগুলির এক বা একাধিক দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত রক্তের TSH পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে থাইরয়েডের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী FT4, FT3 বা অন্যান্য পরীক্ষাও করা হতে পারে। শুধু লক্ষণ দেখে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া থাইরয়েডের ওষুধ শুরু, বন্ধ বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
থাইরয়েডের সমস্যা উপশমের উপায়
- ১. সুষম খাবার খান : শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিম এবং প্রয়োজনমতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
- ২. আয়োডিনের ভারসাম্য বজায় রাখুন : পরিমিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিন বা সামুদ্রিক শৈবালের সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
- ৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম ওজন এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- ৪. পর্যাপ্ত ঘুমান : প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ৫. ওষুধের নিয়ম মানুন : লেভোথাইরক্সিন খেলে সাধারণত সকালে খালি পেটে, খাবারের ৩০–৬০ মিনিট আগে খেতে হয়। তবে চিকিৎসকের নির্দেশই অনুসরণ করুন।
কখন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি ?
বুকব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খুব দ্রুত হৃদস্পন্দনের সঙ্গে অসুস্থতা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
মনে রাখবেন- থাইরয়েডের সমস্যা সঠিক পরীক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।