তাপস মহাপাত্র
জ্ঞনেশ ঝড়ের মধ্যেই কেন্দ্রের আরেক বিষফোঁড়া- অঙ্কিতা ভাণ্ডারি কাণ্ড। অভিযুক্ত দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদে দিল্লির পথে নামলেন উত্তরাখণ্ডের নিহত কিশোরী অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা। এই নিয়ে ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জেরে বুধবার রাতে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। যদিও বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই আটকের ঘটনায় মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে কংগ্রেস। কংগ্রেসের তরফে একে ‘কাপুরুষতা ও সংবেদনহীনতার চরম নিদর্শন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অঙ্কিতার বাবা কেন্দ্রীয় সরকারকে গৌতমের নিয়োগ বাতিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সরকার তাঁদের দাবি না মানলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা। পরিবারের অভিযোগ, অঙ্কিতার মৃত্যুর ঘটনায় গৌতমের বড় ভূমিকা ছিল।
বাবা-মা ছাড়াও কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদেরও মুক্তি দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা, সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রিনাতে এবং ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের প্রধান উদয় ভানু চিব।
অঙ্কিতার বাবা-মাকে আটকের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ভোর ৪টে। যখন সারা বিশ্ব ঘুমিয়ে, তখন অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হল।” তিনি আরও লেখেন, “তাঁদের অপরাধ কী ? তাঁরা ইন্ডিয়া গেটের সামনে শান্ত হয়ে বসেছিলেন—কোনো হট্টগোল ছাড়াই, কেবল এই দাবি নিয়ে যে, সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুষ্যন্ত গৌতমকে যেন সিকিমের রাজ্যপাল করা না হয়।” কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “মোদী সরকারের কাপুরুষতা ও সংবেদনহীনতার চরম নিদর্শন! অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা, যারা ন্যায়বিচারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন, তাদেরই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; অথচ বিজেপির এক ‘ভিআইপি’কে পুরস্কৃত করা হয়েছে রাজ্যপালের পদে বসিয়ে।”
অঙ্কিতার বাবা-মা দাবি, এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের নিয়োগ স্থগিত রাখা হোক। তাঁদের অভিযোগ, তিনিই সেই ‘ভিআইপি’ যার সঙ্গে এই অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে। সোমবার তাকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঋষিকেশের বনন্তরা রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত অঙ্কিতাকে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এর চার দিন পর চিল্লা খাল থেকে তাঁর মরদেহ মেলে। প্রাক্তন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যর ছেলে ও বনান্তর রিসোর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তার দুই সহযোগীকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই অপরাধের সঙ্গে এক অজ্ঞাত ‘ভিআইপি’-র যোগসূত্র থাকার অভিযোগ ওঠায় মামলাটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অঙ্কিতার পরিবার ও আন্দোলনকারীরা এই ‘ভিআইপি’ যোগসূত্র নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন, আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গৌতমের নাম উঠে এসেছে। যদিও গৌতম এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন।
কংগ্রেসের দাবি, গৌতমকে আড়াল করতেই কেন্দ্রের এই নিয়োগ। কারণ, কোনো ব্যক্তি রাজ্যপালের পদে আসীন থাকলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক গৌতম অতীতে বিজেপির উত্তরাখণ্ড রাজ্যের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন।