বিগত বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের হতাশা থেকেই বিরোধীরা মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে। জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে এমনই সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে সিপিআইএমের ৩৪ বছরের নৃশংস অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচাতে তৃণমূল তৈরি হয়েছিল, আজ ক্ষমতার মোহে সেই সিপিআইএমের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছে এআইটিসি। একসময় কংগ্রেস থেকে ঘাড় ধাক্কা খেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গঠন করেছিলেন। যে সিপিআইএম সাঁইবাড়ি ঘটিয়েছিল, নন্দীগ্রামে মহিলাদের সম্মানহানি করেছিল, ধানতলা-তিলজলায় আনন্দমার্গীদের পুড়িয়ে মেরেছিল, ৫৪ হাজার কলকারখানা বন্ধ করেছিল, আজ তাদের সঙ্গেই আঁতাত করেছেন মমতা।”
তাঁর কটাক্ষ, “যে সিপিআইএমের নাম-নিশান বাংলায় মুছে গেছে, মহাশূন্যে বিচরণ করা সেই দলের সঙ্গে জোট করা তৃণমূলের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই প্রমাণ করে।”
ভোটের ফল তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। আমরা জিতেছি ২০৮টি আসনে, ওরা দুই দল মিলে মাত্র ৮০টি। প্রায় ২ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষের এই ম্যান্ডেট ওরা মানতে চাইছে না। আপনাদের তৈরি দুর্নীতির সাম্রাজ্য ধ্বংসের মুখে। কয়লা, বালি, পাথর চুরি, অবৈধ টোল, চাকরি চুরির পর আপনারা আতঙ্কে ভুগছেন, কারণ জনরোষ এখনও রয়েছে।”
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে তিনি বলেন, “গতকালের ছবিই প্রমাণ করে এসআইআর সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছে। কেরালায় কংগ্রেস জিতেছে বলে সেখানে এসআইআরকে সমর্থন করছে। আর এখানে সিপিআইএম সোশ্যাল মিডিয়া আর টক-শোতেই সীমাবদ্ধ। রায়গঞ্জে বারবার হেরে ক্লান্ত মহম্মদ সেলিম আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন এক সুরে আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন। পারলে এম এ বেবি, মমতা ও রাহুল গান্ধী কেরালায় গিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন করুন।”
সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে তিনি জানান, সমস্ত আইনি জটিলতা ও ওবিসি জট কাটিয়ে ১২ হাজার পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, ৪ লক্ষ কৃষক পরিবারকে সরাসরি ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের সভা নিয়ে তিনি বলেন, “ওদের সভায় ১৭০ জন পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়া কেউ ছিল না, পুরো মাঠ ফাঁকা। একটি চ্যানেল তো পুরো সভার ছবি না দেখিয়ে শুধু সামনের অংশ দেখিয়ে সত্য গোপন করেছে। মিথ্যা অপপ্রচার করে জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে ছোট করা যাবে না, বাংলার মানুষ তা মানবে না।”