মেশিন
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
ড্যাফোডিল গাছটা বরফে ঢাকা পড়ে গেছে। একটু আগে বরফ সরানোর পুরকর্মীরা ট্রাক নিয়ে এসে রাস্তা পরিস্কার করেছে। মেঘলা সকাল তবু লোকজন ওভারকোট আর ছাতা নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছে। দু’একটা গাড়ি বরফ ঝেড়ে বেরিয়ে আসছে পার্কিং জোন থেকে। কিছুক্ষণ আগে আমাকে মিস্টার মর্গ্যান এখানে দাঁড় করিয়ে রেখে গেছেন। মেডিক্যাল সরঞ্জামের নামকরা শোরুমের মালিক মিস্টার মর্গ্যান আর আমি তাদের কোম্পানির নবতম আবিস্কার মাইক্রো ডিজিটাল এক্স রে মেশিন। অবশ্য আমি বিজ্ঞাপনের জন্য নমুনামাত্র। আমার জ্ঞাতিভাইরা শো-রুমের ভেতরে বাক্সের ভেতরে ঘুমাচ্ছে।
এক্স রে মেশিন মানেই অনেক কিছু দেখা যায়। পোশাক আর চামড়া ভেদ করেও অনেক কিছু। এই একটু আগে একজনের ওভারকোটের পকেটে একটা ছুরি দেখলাম। তার আগে এক মহিলাকে দেখলাম ব্যাগের ভেতরে কয়েকটা কাঁটা চামচ আর খুচরো কিছু সেন্ট নিয়ে রাস্তা পেরোলেন। এক সুন্দরী যুবতীর হাঁটুতে দেখলাম ধাতব স্ক্রু। সেদিন একটা স্কুলছাত্রের ব্যাগে আস্ত একটা স্টেনগান দেখেছি। আমি এ রকম অনেক কিছু দেখতে পাই। এটাই আমার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু কিছুই করতে পারি না। নড়তে পারি না।
মিস্টার মর্গ্যানের বুকে একটা পেসমেকার বসানো। সেটাকে প্রতিদিন দেখি। দু’বার। ধাতব জিনিসগুলোতে আমার চোখ আটকায়। মাঝে মাঝেই আফশোস হয়, আমাকে কেন কোনো হসপিটাল নিয়ে যাচ্ছে না! বেশ কয়েকদিন ধরেই একটা ছেলে আসে। আমার সামনে দাঁড়ায়। তার জ্যাকেটের আড়ালে স্টেথো দেখেছি। বোধহয় নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারের জন্য আমাকে চাই। অথচ তাকে এখনো অনেকগুলো ইউরো জমাতে হবে।
আজ আপনাকে এই প্রথম দেখলাম। আমার কথা পড়ছেন, আমাকে দেখছেন খুঁটিয়ে। যা বলছি তা সত্যি কি না! ঠিক আছে এবার আপনি মিলিয়ে নিন। আপনার হৃদয় নেই। আপনার বুকের খাঁচাটা লোহার তৈরী। আর আইবলের সাথে যুক্ত মস্তিষ্কে যে হার্ডডিস্কটা রয়েছে সেটা এই শীত সহরে বহুদিন প্রেম দেখেনি।