ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে রবিবার কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নতুন মেয়র নির্বাচন এবং পুরবোর্ডের পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে দলীয় মহলে উপস্থিতি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কাউন্সিলরদের বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্টতায় অনুপুস্থিতির আশঙ্কা ছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল ভবনের বাইরে ব্যপক জনরোষেও পড়তে হতে পারে একাধিক নেতাদের এই আশঙ্কার জেরে কার্যত বাতিল হয় কাউন্সিলার বৈঠক।
বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজত্ব করা তৃণমূলের এহেন দুরাবস্থা হয়ত আগে কোন রাজনৈতিক দলের হয়নি। গত কয়েক মাসে একাধিক দুর্নীতি মামলা, গ্রেফতারি এবং প্রশাসনিক বিতর্কে তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মীকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দলীয় অন্দরে এমনও আশঙ্কা তৈরি হয় যে, প্রকাশ্যে কাউন্সিলরদের একত্রিত হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের। এমনকি বিক্ষোভকারীদের তরফে ডিম নিক্ষেপ করার পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনার কথাও শোনা যায়। দুর্নীতির অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে অনেক জনপ্রতিনিধিই প্রকাশ্যে বেরোতে স্বস্তি বোধ করছেন না বলেও দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর নতুন মেয়র নির্বাচন এবং পুরসভার নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ রয়েছে দলের উপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্য বৈঠক এড়িয়ে দলীয় নেতৃত্ব বিকল্প উপায়ে কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পথ খুঁজছে। বিধায়ক এবং সাংসদ বৈঠকে দলের সিংহভাগের অনুপুস্থিতির পর এবার কাউন্সিলর বৈঠকও শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপি এই ঘটনাকে শাসকদলের দুর্বলতা এবং জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিশেষ মন্তব্য না করলেও এই সব ঘটনার জেরে বেশ অস্বস্তিতেই রয়েছে মমতার দল।