নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লী : ছাব্বিশে বিজেপির বঙ্গ জয় কার্যত অসম্ভব। এটা বিলক্ষণ জানেন বিজেপির দিল্লি-নেতারা। তাই বাংলায় পদ্ম ফোটাতে ঘুরপথে এনআরসির চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। শনিবার এহেন অভিযোগে সরব হয় তৃণমূল। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নতুন ভোটার তালিকার নিয়ম নিয়ে দিল্লিতে সরব হয়েছে তারা। জোড়া ফুল শিবিরের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় ‘স্বচ্ছতা’ আনতে তালিকা সংশোধনের কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সে জন্য রাজ্যে রাজ্যে পাঠানো হয়েছে একটি ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’। যার বেশ কিছু নিয়মাবলি নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ইস্যুতে শনিবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনের উপর কার্যত খড়গ হস্ত জোড়া ফুল শিবির। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও ডেরেক ওব্রায়েন। রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, “বিজেপির সাম্প্রতিক আভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে এসেছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৫ থেকে ৪৯টি আসন পেতে পারেন। এই তথ্য উঠে আসতেই বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এই সমীক্ষা কে বা কারা করছেন সেই সব তথ্য তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ। প্রসঙ্গত কাকতালীয় ভাবে,সম্প্রীতি ডায়মন্ড হারবারের একটি সভা থেকেও এমনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পঞ্চাশের নিচে আসন পাবে সে কথা বলেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে দলের রাজ্যসভার উপ-দলনেতা সাগরিকা ঘোষ দাবি করে “বাংলায় পরাজয় নিশ্চিত বুঝে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহারের অপচেষ্টা করছে বিজেপি। ঘুরপথে ভোটার তালিকায় বিস্তারিত তথ্য জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভোটারের জন্ম সংশাপত্রের পাশাপাশি তার বাবা-মায়ের জন্ম সংশাপত্র জমা দেওয়ার দাবির মধ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, আমাদের বাবা-মায়েদের জন্মের সময়ে শংসাপত্র ছিল কি ? আবার কমিশন বিএলও, বুথ স্তরের কর্মীদের তথ্য চেয়েছে। এর পিছনে কি কারণ থাকতে পারে ? আসলে বিজেপি যেভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে তৃণমূলের বুথ কর্মীদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো চেষ্টা করা হচ্ছে।
