প্রদীপ মাইতি, ওঙ্কার বাংলা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যেন এখনই দরজায় কড়া নাড়ছে। সেই লক্ষ্যে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের প্রস্তুতি একধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে নিল। এবার আর ছোটখাটো সভা-সমিতি নয়, শুরু হতে চলেছে মেগা কর্মসূচির পর্ব, যা ছড়িয়ে পড়বে রাজ্যের প্রতিটি কোণে, প্রতিটি স্তরে।
জনসংযোগে জোর, মানুষের দুয়ারে ফের তৃণমূল
তৃণমূলের মূল লক্ষ্য একটাই—মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে তোলা। ‘দুয়ারে সরকার’, ‘পাড়ায় সমাধান’-এর মতো জনপ্রিয় কর্মসূচিগুলিকে আরও বেশি জোর দিয়ে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি উঠে আসবে গত কয়েক বছরে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও তার সুফল। দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করেছেন। জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত প্রতিটি কর্মীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—আগামী দিনগুলিতে এক মুহূর্তও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই।
বিরোধীদের প্রতি পালটা আক্রমণও থাকবে কর্মসূচির অংশ
এই কর্মসূচি শুধু জনসংযোগ নয়, একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি তৈরির কৌশল বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বাংলার প্রতি অবিচার, এবং বিজেপি-কংগ্রেস-বামেদের “ভুলনীতি” তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে এই রোডম্যাপে। তৃণমূল নেতৃত্ব তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি অনুপ কুমার মাইতি জানিয়েছেন, “যারা বাংলা নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের উদ্দেশ্য একটাই—এই রাজ্যের সম্মান ও সংস্কৃতিকে আঘাত করা। তৃণমূল সেই আক্রমণের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।”
রাজ্যজুড়ে রোড শো, জনসভা, ক্যাম্পেইন
তৃণমূলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা, ব্লক ও শহরে অনুষ্ঠিত হবে ধারাবাহিক রোড শো, জনসভা, কর্মিসভা এবং ক্যাম্পেইনিং। আগামী কয়েক মাস ধরেই এই কর্মসূচি চলবে টানা, যাতে প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছনো যায়। নেতৃত্ব দেবে রাজ্যের শীর্ষ নেতারা—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা। মহিলা, যুব, শ্রমিক এবং ছাত্র সংগঠনকেও এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে স্পষ্ট বার্তা— ২০২৬ সালের নির্বাচনে শুধু জয় নয়, অনেক বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ময়দানে নামছে ঘাসফুল শিবির। এ যেন শুধু নির্বাচন নয়, মানুষের মনের মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই। তৃণমূলের এই নতুন কর্মসূচি রাজ্যের রাজনীতিতে যে এক নতুন উত্তেজনার আবহ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
