নিজস্ব প্রতিনিধি: রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করেও শেষ মুহূর্তে পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ বিল কার্যকর হওয়ার ঠিক আগের দিন তিনি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মকুবের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘জাতীয় স্বার্থে’ই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল।
গত মাসে এই বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার আর্থিক উৎসে লাগাম টানা এবং রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক খাতে সহায়তাকারী বিদেশি সংস্থাগুলিকে চাপে ফেলাই ছিল এই আইনের লক্ষ্য। এই বিল কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেত আমেরিকা, যা ভারত ও চিনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আপাতত সেই শঙ্কা থেকে স্বস্তি পেয়েছে দুই দেশই।
তবে ট্রাম্পের এই ইউ-টার্নে দেশের ভিতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট— উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতারাই তাঁকে নিশানা করেছেন। এই বিল তৈরিতে যুক্ত সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, এটি ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, এই ছাড়ের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার কোনও সম্পর্ক নেই, এটি পুতিনকে তোষামোদ করার সিদ্ধান্ত।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বায়ারও একে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আক্রমণাত্মক যুদ্ধের শাস্তি হিসেবে আনা আইনের সংসদীয় উদ্দেশ্যকে লঙ্ঘন করেছেন প্রেসিডেন্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম আরও কড়া ভাষায় বলেন, “কেউ একজন পুতিনের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন।” প্রতিনিধি টেরেসা লেজার ফার্নান্ডেজ তো ট্রাম্পকে ‘পুতিনের হাতের পুতুল’ বলেও আক্রমণ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে চুক্তি করে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লক্ষ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে এবং নভেম্বরের মধ্যে আরও পাঁচ লক্ষ টন ও পরে আরও দশ লক্ষ টন জ্বালানি পাঠাবে। সমালোচকদের মতে, এই ডিজেল চুক্তি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে তেমন প্রভাব ফেলবে না, বরং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যেতেই সাহায্য করবে।