নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর : দুর্গাপূজা মানেই তা শহরের একচেটিয়া উৎসব নয়, তা প্রমাণ করে গ্রাম বাংলার শারদোৎসবের উদ্দীপনা। শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শারদোৎসবের বিস্তার এখন গ্রামে গ্রামে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি-২ নম্বর ব্লকের নিমতলা যুব গোষ্ঠীর দুর্গাপূজা তারই এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এবার তাদের পুজো ১৫তম বর্ষে পদার্পণ করল। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার এই পুজো ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উন্মাদনা ও উল্লাস এখন তুঙ্গে। মণ্ডপের সাবেকিয়ানা ও সজ্জা রীতিমতো নজর কেড়েছে। শহরের জাঁকজমককে পেছনে ফেলে নিমতলা যুব গোষ্ঠীর পুজোয় এবার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অনবদ্য সাবেকিয়ানা। অপরূপ ও সুদৃশ্য মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা গ্রামীণ রাতের আকাশকে আলোকিত করে তুলেছে। এই পুজোর নান্দনিক রূপ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।
কেবল আনন্দ-উৎসব নয়, এই পুজোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যও অপরিসীম। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার বহু প্রান্তিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতি এসেছে। এলাকার যুবসমাজ থেকে শুরু করে প্রবীণ ব্যক্তি—সকলেই এই উৎসবকে সফল করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, খেজুরি বিধানসভার বিধায়ক সুব্রত পাইক এবং নিজকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তারাপদ মণ্ডলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আয়োজিত এই পুজো এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্যোক্তারাও ভীষণভাবে আপ্লুত। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলিও এই গ্রামীণ পুজোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে। শহরের গণ্ডী পেরিয়ে গ্রামের মাটিও যে আজ শারদীয়ানায় মুখরিত হতে পারে, নিমতলা যুব গোষ্ঠীর এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।