ওঙ্কার ডেস্ক : অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসার পর তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় কোনো দলই প্রয়োজনীয় ম্যাজিক নম্বর ১১৮ ছুঁতে না পারায় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়েছে। তবে আসন বেশি পাওয়ার নিরিখে টিভিকেই সরকার গঠনের দাবি জানায়। সেইসঙ্গে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য দু’ সপ্তাহের সময় চেয়েছে তারা।
এর ফলে সম্ভাব্য জোট নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। কারণ টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ১০টি আসন কম পেয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি সেদিকে। কোন কোন দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ের দলকে সমর্থন দিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারে তা নিয়ে তামিলনাডুতে শুরু হয়েছে জোর তর্জা।
এদিকে, কংগ্রেসের তামিলনাড়ুর ভারপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ চোডানকর বলেছেন, নির্বাচনের রায় জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের এক সুস্পষ্ট আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, টিভিকে-র শক্তিশালী পারফরম্যান্সে তরুণ ভোটার এবং নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও নারীরা বিপুল সংখ্যায় টিভিকে-কে সমর্থন করেছেন। আমরা জনগণের এই রায়কে সম্মান করি।”
চোডানকার আরও জানান যে, তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফলাফলের ওপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপালসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তামিলনাড়ুতে পরবর্তী কর্মপন্থা নেতৃত্ব সম্মিলিতভাবে ঠিক করবে।”
চোডানকার এও ইঙ্গিত দেন যে, পরিস্থিতি দাবি করলে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা সমর্থন দিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “টিভিকে তাদের বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত করার পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। টিভিকে-কে কেউ যেন ছোট করে না দেখে।”
যেহেতু এখন সংখ্যাতত্ত্বই প্রধান হয়ে উঠেছে, তাই সকলের দৃষ্টি রাজ্যপালের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সেইসব পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক জোটের দিকে, যা নির্ধারণ করবে তামিলনাড়ুতে পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে।