ওঙ্কার ডেস্ক: অবশেষে কাটল জিরো–র কোটা। গেরুয়াময় ভারতের এক কোনে উঁকি মারছে এক টুকরো লাল। বাকি কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে এখনও হতাশার ছবিই বহাল রয়েছে। শিবরাত্রির শেষ সলতে জ্বালিয়ে রাখল ডোমকল।সেই জয়ের নেপত্থে রয়েছে একটাই নাম মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানা। ডোমকল কেন্দ্রে ১৬,২৯৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি।
তবুও ডোমকলের এই সাফল্যেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই আলিমুদ্দিন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর ছাব্বিশেও শীর্ষনেতৃত্বকে হতাশ করেছেন তরুণ তুর্কিরা। উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দমদম উত্তরের দীপ্সিতা ধর বা পানিহাটির কলতান দাশগুপ্ত, কেউই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। প্রচারে ঝড় তুলেও ভোটবাক্যে কলতান রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। আশঙ্কা সত্যি করে পরাজিত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও। এমন দুঃসময়ে বাম শিবিরের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছেন ডোমকলের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। একটা সময়ে বামদুর্গ বলে পরিচিত ডোমকলের হাত ধরে লাল ঝান্ডা আবার বিধানসভায় ফিরছে। তবুও রানার এই জয়ের আভাস আগে থেকেই মিলেছিল। শাসকদল তৃণমূল ছেড়ে এক ধাক্কায় শতাধিক কর্মীর সিপিএমে যোগদান এবং তারপর তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলের ঘটনাটি ডোমকল পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ রাতারাতি বদলে দিয়েছিল। ডোমকল পুরসভার প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল মালিথা ওরফে বাবুর নেতৃত্বে প্রায় ৪০০টি পরিবার তৃণমূলের হাত ছেড়ে সিপিএমের লাল পতাকা হাতে তুলে নেয়। নির্বাচন আবহে একটি কথা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হচ্ছে, ‘আগে রাম পরে রাম’। গত লোকসভা ভোটে দক্ষিণ কলকাতা আসনে সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন সায়রা শাহ হালিম। ভবানীপুর বিধানসভায় তিনি পেয়েছিলেন ১৪,০০৬টি ভোট। এবার বিধানসভায় নির্বাচনে তা কমে দাঁড়াল ৩৫৫৬। অর্থাৎ বামেদের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোট চলে গেছে বিজেপিতে। বাংলায় বামেদের ভোট এভাবে রাম তথা বিজেপির কাছে চলে যাওয়ার এরকম কম বেশি আরও কিছু নজির রয়েছে ঠিকই। তবে সিপিএমের তুলনায় অনেক অনেক বেশি তৃণমূলের ভোট চলে গেছে বিজেপির দিকে। তৃণমূলের হারানো ভোটই বিজেপির জয়ের আসল কারিগর। তথ্য বলছে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৯.৫ লাখ ভোট কমেছে, আর বিজেপির ভোট বেড়েছে প্রায় ৬৩ লাখ। অর্থাৎ তৃণমূলের হারানো ভোটের সিংহভাগই সরাসরি গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে গিয়েছে। কিন্তু রক্তক্ষরণ কি বন্ধ হবে এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।